লতিফ সিদ্দিকীকে ‘বয়স প্রতিবন্ধী’ বললেন প্রতিমন্ত্রী মানকিন

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৪, ১৭:৫১
 
আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ‘বয়স প্রতিবন্ধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সমাজে এ কে খন্দকার ও লতিফ সিদ্দিকীর মত বয়স প্রতিবন্ধীদের জন্য দেশে বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 
রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থা আয়োজিত  ‘সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তকরণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
 ডিজঅ্যাবিলিটি রাইটস ফান্ড’র (ডিআরএফ) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রমোদ মানকিন আরো বলেন, বয়স্ক প্রতিবন্ধীতার কারণে এ কে খন্দকার ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে জয় বাংলা শোনেননি। এদিকে লতিফ সিদ্দিকীও বয়স্ক প্রতিবন্ধীতে আক্রান্ত। এ কারণে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে এমন কথা বলেছেন। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বির্তকিত এসব কথায় দায়ভার তার একার, মন্ত্রিসভার নয়। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও পারিবারিক কাজে অন্তর্ভুক্ত করে সোনার বাংলা গঠন করতে হবে।
প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে মন্তব্যে তিনি বলেন, সুযোগ দিলে গোবরেও পদ্মফুল ফোটে। তাই প্রতিবন্ধীদের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তি আরও বাড়াতে হবে। সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় সব ধরনের কাজের প্রতিবন্ধীদের অর্ন্তভূক্ত করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক বলেছিল, আমরা নাকি চোর-বাটপার। কিন্তু এখন তারা বলছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ২ এ উন্নীত হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার এডভোকেসি অফিসার শামীমা আক্তার, ডিজ্যাবিলিটি বিশেষজ্ঞ ড. আনিসুজ্জামান, সিবিএম এর প্ল্যানিং এন্ড ডকুমেন্টশন অফিসার ফাহমিদা খান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজরানা ইয়াসমিন হীরা, এডিডি ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম, জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সরদার প্রমুখ। সেমিনারে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগী সংখ্যা বৃদ্ধি করা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাইভেট সেক্টরে কর্মসংস্থান করা, ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড ও সাধারণ রিলিফ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ১০ ভাগ কোটা বরাদ্দসহ মোট ১৭টি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।