শাহাজাহান খান ও মির্জা আব্বাসকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৪, ১৯:২১
 
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসকে  জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দিয়ে সরকারের সাড়ে ১৫ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দুদকের করা মামলার সাক্ষী হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
রবিবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শাজাহানকে, বেলা পৌনে ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যতন কুমার রায় ।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর শাজাহান খান ও মির্জা আব্বাসকে তলব করে চিঠি দেয় দুদক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, প্লট বরাদ্দের অনিয়মের ব্যাপারে দুদককে অবহিত  করা হয়েছে। তিনি বলেন, সব দলের সমন্বয়ে গঠিত ঝিলমিল বহুমুখী প্রকল্প নামে একটি সংগঠন রয়েছে। ১৯৯৬ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন সাত একরের একটি প্লট তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর চার দলীয় ঐক্যেজোট সরকার ২০০৫ সালের দিকে ঢাকা সাংবাদিক সমিতির নামে একটি সংগঠনকে সাত একরের প্লটটি বরাদ্দ দেয়ার কথা হচ্ছিল। তত্কালীন গৃহায়ণ ও পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির নিজে এ প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিলেন। এরপর তারা ঝিলমিল প্রকল্পের পক্ষ থেকে তত্কালীন মন্ত্রী মির্জা আব্বাসকে প্লটটি বরাদ্দ না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, অবৈধভাবে ঐ প্লটটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুদক চিঠি পাঠালে তিনি জানতে পারেন যে, এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় তিনি একজন সাক্ষী হিসাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডকে প্লট বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম অনিয়ম হয়নি। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার তাদের, তাই তারা যা করেন তা সবই বিধিভূক্ত হয়। আর যারা সরকারে নেই, তাদের সবই বিধিবহির্ভূত হয়।
দুদকের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মির্জা আব্বাস ও শাজাহান খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শাহজাহান খানের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা ও মামলার বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানা না থাকার কাছে মির্জা আব্বাস তেমন কোন তথ্য দিতে পারেননি। এজন্যে তিনি দুদকের কাছে সময় চেয়েছেন। পরে তিনি পরে আবার দুদক কার্যালয়ে আসবেন।
গত ৬ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুদকের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৬ সালে আলমগীর কবিরের হস্তক্ষেপে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডকে বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে প্লট বরাদ্দ দেন। ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের সরকারি সাত একর সম্পত্তি তিন কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে বরাদ্দ দিয়ে সরকারের ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা ক্ষতিসাধনপূর্বক আত্মসাত করেছেন। মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) মো. আজহারুল হক, মুনসুর আলম ও মতিয়ার রহমান।