ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের নতুন উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খী ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো কাজটি করেন অস্ত্রধারী এক ব্যক্তি। তবে পাইলট ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করায়।
অবতরণের পর কৌশলে উড়োজাহাজের ডানার পাশের চারটি ইমারজেন্সি গেট দিয়ে যাত্রীরা নেমে পড়েন। সব যাত্রীরা সুস্থ আছেন। তবে রবিবার সন্ধ্যায় ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে জানা যায় সেই ব্যক্তি মারা গেছেন।
বিমানের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটির একজন ক্রু জানান, বিকালে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি উড়ে যায়। আকাশে প্রায় ১৫ হাজার ফুট ওপরে উঠার পর যাত্রীদের আসনে থাকা এক ব্যক্তি উঠে ককপিটের দিকে আসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি এক ক্রুর কাছে গিয়ে বলেন, আমি বিমানটি ছিনতাই করব। আমার কাছে পিস্তল ও বোমা আছে। ককপিট না খুললে আমি বিমান উড়িয়ে দেব। এটা বলে সঙ্গে সঙ্গে একটি পিস্তল ও বোমাসদৃশ একটি বস্তু বের করে ব্যক্তিটি।
আরো পড়ুন: মৃত্যুকুপ থেকে বেঁচে যাওয়া চালকের মর্মস্পর্শী বর্ণনা
ওই ক্রু আরো জানান, এর মধ্যে অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটকে গোপনে বার্তা দেন যে, উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
উড়োজাহাজে থাকা একটি সূত্র জানিয়েছে, ককপিটের দরজা না খোলায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিটি উড়োজাহাজের ভেতরে বিস্ফোরণের মতো ঘটান। ততক্ষণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে উড়োজাহাজ। এরপরই রানওয়েতে বিমানটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ।
ওই বিমানে থাকা জাসদের সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল গণমাধ্যমকে বলেন, বিমানে দেড়শ যাত্রী ছিল। পাইলট আমার সঙ্গে নেমে এসেছে। সে বলেছে, তাকে পারসু করার চেষ্টা করেছিল ছিনতাইকারী। বলেছিল, সে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চায়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
