প্রশাসনের অবহেলায় ধর্ষক-খুনিরা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৪, ০০:০০

পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সরকার ঘরে-বাইরে কোথাও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। নিপীড়ক-ধর্ষক-হত্যাকারীরা ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে অপরাধ করেও শাস্তি পাচ্ছে না। প্রশাসনের অবহেলায় হত্যাকারী-নিপীড়ক-ধর্ষক বরাবরই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে বেড়েই চলেছে নারী নির্যাতন-হত্যা-ধর্ষণের ঘটনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত কোথাও নারী নির্যাতন মুক্ত নয়। এমন সমাজ কারোই কাম্য হতে পারে না। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হলে, যৌতুক দিতে না পারলে, পুরুষ নিজের দোষ ঢাকতে নারীকে হত্যা করছে। মানুষ হিসেবে নারীর বেঁচে থাকার অধিকার পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কেড়ে নিচ্ছে।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিপ্লবী নারী সংহতি আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। এসময় তারা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সোহাগপাড়া গ্রামে মা ও তিন মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সোহাগপাড়া গ্রামে মা হাসনা বেগম ও তিন মেয়ে মনিরা, মিলি ও মিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরে আগুন দিয়ে হত্যা করে স্থানীয় প্রভাবশালী জাহাঙ্গীর আলম। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিরা ও তার পরিবারকে দিনের পর দিন উত্ত্যক্ত করেই রেহাই দেয়নি হত্যাকারীরা। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সবাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের পর ছয়দিন পার হলেও জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে তাতে অপরাধীরা বিচার বা শাস্তির আওতায় না আসায় নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। নারী নির্যাতন বন্ধে সরকারের চরম উদাসীনতাকে দায়ী করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে নারী নির্যাতনের প্রত্যেকটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাড়া, মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও আহবান জানান বক্তারা।
সংগঠনের সমন্বয়ক শ্যামলী শীলের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সমন্বয়ক তাসলিমা আখতার লিমা, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভুঁইয়া, প্রতিবেশ আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেল, বিপ্লবী নারী সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্য রেবেকা নীলা, নাসরিন আক্তার সুমিসহ অন্য নেতাকর্মীবৃন্দ। মানববন্ধনে সংহতি জানান ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অধ্যাপক ঝর্ণা রহমান, সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী, ফারুক ফয়সাল, মানবাধিকার কর্মী মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য জান্নাতুল মরিয়ম তানিয়া।
জাহাঙ্গীরের ফাঁসির দাবিতে মির্জাপুরে মানববন্ধন
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, হাসনা বেগম ও তার তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবিতে গতকাল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং এলাকাবাসী এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এসময় হাসনা বেগমের স্বামী মজিবর রহমানও বক্তব্য রাখেন। নিহত মনিরা গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়তো।
গতকাল মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, মামলার ৫ নম্বর আসামি বদর উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহতদের বাড়িতে এখনো রয়েছে পুলিশ পাহাড়া। বখাটে জাহাঙ্গীর ও মামলার অপর আসামিদের বাড়িতেও রয়েছে পুলিশ মোতায়েন। আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় নিহতদের পরিবারসহ এলাকাবাসী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।