প্রায় দুই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ও তথ্য গোপনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ জব্বার ও তার ছেলে মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার রাজধানীর রমনা মডেল থানায় ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলা দুটি (মামলা নং-২০, ২১) দায়ের করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। গত ২ অক্টোবর কমিশনের এক সভায় সাবেক এমপি এমএ জব্বার এবং তার ছেলের মো. মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক ২ টি মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়া হয়।
মামলার এজহারে বলা হয়, গত ৭ এপ্রিল আসামি এম এ জব্বার দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মোট ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার ৪৮৮ টাকার সম্পদ উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদক অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে আরো ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯০ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে। অপর দিকে এম এ জব্বারের ছেলে মো. মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে সাড়ে ১৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহিভুত অর্থাত্ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদক রমনা থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করে।
ঐ মামলার এজহারেও উল্লেখ করা হয়, গত ৭ এপ্রিল তিনি দুদকে মোট ১৮ লাখ সাড়ে ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন। কিন্তু দুদক অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে সাড়ে ১৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহিভুত অর্থাত্ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের তথ্য পেয়েছে।
দুদক সূত্র আরো জানায়, হলফনামায় দেওয়া সম্পদের তথ্যের সূত্র ধরে দুদক তাদের এ অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান পর্যায়ে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আয়কর নথি, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, রিহ্যাব, ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য অফিসে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয় এবং তা পর্যালোচনা করে দুদক জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদের পরিমাণ নির্ণয় করে।
