মহাসড়কে ১৪৪ দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান ঠিক করতে ১৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৪, ০৪:৪০

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২০ সালের মধ্যে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের মহাসড়কগুলোর ১৪৪টি স্থানকে দুর্ঘটনাপ্রবণ (ব্ল্যাকস্পট) হিসেবে চিহ্নিত করেছে সড়ক বিভাগ। মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এসব স্থান ঠিক করতে সড়ক বিভাগ ১৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে। ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব রোড সেফটি অ্যাট ব্লাকস্পটস অন ন্যাশনাল হাইওয়েস’ শীর্ষক এই প্রকল্পে স্থানীয় মুদ্রায় এ অর্থ দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উঠছে বলে জানা গেছে। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কের বাঁক সোজা করা, ইন্টারসেকশন উন্নয়ন, পথচারীর পারাপার উন্নয়ন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা অপসারণ, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং স্থাপন করা হবে।

সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ যেসব মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে, সেসব ছাড়া প্রায় সব মহাসড়কই এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। মহাসড়কের আঁকাবাঁকা স্থানগুলোতেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ এন সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হলে মন্ত্রণালয়ের অধীন থোক বরাদ্দ থেকে কাজ শুরু করা হবে।
বিভাগ অনুযায়ী মহাড়সকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা : প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৪০টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে ঢাকা বিভাগের মহাসড়কে, ঢাকা থেকে ভৈরব, সাভার থেকে মানিকগঞ্জ এবং কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়া ঘাট পর্যন্ত। ফরিদপুর সদর, মধুখালী, ভাঙ্গা, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মাদারীপুরের কালকিনি এলাকার মহাসড়কও দুর্ঘটনাপ্রবণ।
৩৫টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে রংপুর বিভাগের বগুড়ার শেরপুর থেকে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও হয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার মহাসড়কে। রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর প্রায় ১২৫ কিলোমিটার মহাসড়কের ৩৪টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে সিলেট হয়ে তামাবিল পর্যন্ত ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। তবে এই মহাসড়কের একাংশ (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে সরাইল পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার) চট্টগ্রাম বিভাগের সড়ক ও জনপথের কুমিল্লা অঞ্চলে অবস্থিত। এই অংশে আটটি ‘ব্ল্যাকস্পট’ রয়েছে।
খুলনা বিভাগের মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, বাগেরহাটের মংলাবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার মহাসড়কে ১১টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে। বরিশাল বিভাগের গৌরনদী থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৮১ কিলোমিটার মহাসড়কে দুটি স্থানকে দুর্ঘটনাপ্রবণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট সব মহাসড়কে ২০৯টি স্থানকে দুর্ঘটনাপ্রবণ চিহ্নিত করে। এর ৮৩টি এলাকায় উন্নয়নকাজ চলছে। বাকি ১২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। পাশাপাশি সওজের রোড সেফটি ইউনিট মহাসড়কগুলোতে আরও ১৮টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করেছে।