আদালত জাদুঘর

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৪, ১১:৪৬
 দেশে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আদালত জাদুঘর। সর্বোচ্চ আদালতের নিজস্ব অর্থায়ন এবং ব্যবস্থাপনায় সুপ্রিম কোর্ট ক্যাম্পাসে স্থাপিত হচ্ছে এই জাদুঘর। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘর’। জাদুঘরে স্থান পাবে বিচার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদন, বিচারপতিদের ব্যবহূত বিশেষ পদমর্যাদাসূচক টুপি (জাজেস রোবস) ও গাউন, সাক্ষী ও আসামিদের কাঠগড়া, ব্রিটিশ আমলের ডান্ডাবেড়ি, সীল মোহরসহ নানা সামগ্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচার বিভাগের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং বিচারকাজ সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতেই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিচার সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু পুরাতন নথি ও ব্যবহূত সামগ্রী সংগ্রহ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আরো নথি ও সামগ্রী সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকবৃন্দ এবং ৬৪ জেলার জেলা ও দায়রা জজদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কুদ্দুস জামান। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব সংগ্রহের ভিত্তিতেই এই জাদুঘর প্রকল্প শুরু হয়েছে। চলতি বাত্সরিক অবকাশ শেষে জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পর স্কুল শিক্ষার্থীরা জাদুঘর পরিদর্শন করার সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারত, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের আদালত জাদুঘর রয়েছে। বহির্বিশ্বের আদালতে এ ধরনের জাদুঘর দেখে আমাদের এখানেও এ ধরনের আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্ট ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জাদুঘরটি স্থাপিত হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে পুরোদমে চলছে সংস্কারের কাজ। চলছে গ্যালারি নির্মাণ। ভবনটির প্রধান ফটকের উপরে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘর’ নামফলকও টানানো হয়েছে।
যা রাখা হবে: জাদুঘরে আরো যেসব নথি ও সামগ্রী রাখা হবে তার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। ইতিমধ্যে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তান (প্রভিশনাল সংবিধান) আদেশ ১৯৪৭ বলে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া হাইকোর্টে ব্যবহূত বেশ কিছু সামগ্রী ও নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: পুরাতন টাইপরাইটার, দেয়াল ঘড়ি, পিতলের ট্রফি, চেয়ার, টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা, কলম ও নিব, লিখিত সংবিধান ও মনোগ্রাম। নথির মধ্যে রয়েছে: রিপোর্ট অন দ্যা অ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ অফ সিভিল জাস্টিস ইন দ্যা প্রভিশন অফ বেঙ্গল, ১৯৪৬; রিপোর্ট অন দ্যা অ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ অফ ক্রিমিন্যাল জাস্টিস ইন দ্যা প্রভিশন অফ ইস্ট পাকিস্তান, ১৯৬৫; রেকর্ড (১৯৪৭), ক্যালেন্ডার (১৯৫০-২০১৪); ইনডেক্স (১৯৪৭); ম্যাপ (মেইন বিল্ডিং); ম্যাপ (পুরাতন হাইকোর্ট বিল্ডিং) ইত্যাদি।
শতাধিক ব্যক্তিকে চিঠি: সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের জাজেস কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সাবেক প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে দেশের বিচার বিভাগ সম্পর্কিত ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক কোন তথ্যাদি ও সামগ্রী যদি থাকে তাহলে তা সরবরাহ করতে এবং এ বিষয়ে কোন উেসর সন্ধান জানা থাকলে তা কমিটিকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। যারা চিঠি পেয়েছেন তাদের অনেকেই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আবার অনেকে পাল্টা চিঠি দিয়ে জাদুঘরের সংগ্রহশালা আরো কিভাবে সমৃদ্ধ করা যায় তার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।