‘শহীদ মিনারকে দলীয় সম্পত্তি বানাতে চাচ্ছে সরকার’

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৪, ২১:১৩



ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিমের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনতে না দেয়ার নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে ১৭ অক্টোবর তার মরদেহ শহীদ মিনারে রাখার অনুমতি দেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর তাদের লাশ এখানে নিয়ে আসা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এ পবিত্র স্থানটি কারও ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় সম্পত্তি নয়।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. পিয়াস করিমের মতো একজন স্বাধীনচেতা, আপসহীন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী মানুষের লাশ শহীদ মিনারে আনতে প্রতিহতের ঘোষণা কেবল অশোভনীয়ই নয় বরং শহীদ মিনারের মতো পবিত্র স্থানটিও নিজেদের দখলে নেয়ার চক্রান্ত। মহাজোটের শরিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনগুলোর এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘোষণায় ক্ষমতাসীনরা মদত দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীন মহল রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে গ্রাস করতে করতে এখন শহীদ মিনারের মতো জাতির শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর এ পবিত্র স্থানটিকেও দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করতে চাচ্ছে। প্রগতিশীল ও বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ড. পিয়াস করিমের ক্ষুরধার বক্তব্যে সরকারের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিতো। ড. পিয়াস করিম সবসময় সত্যের পক্ষে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে সকল ভয়ভীতি ও ক্রদ্ধ হুমকি উপেক্ষা করে বক্তব্য রাখতেন বলেই ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। আর এ কারণেই ড. পিয়াস করিমের মৃত্যুর পরও তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, দেশের একজন বরেণ্য বুদ্ধিজীবীর লাশকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বাধা দিতে যে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে তা সংকীর্ণ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ নয় বরং এটি একটি ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী আচরণ।