হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আসামিকে সাক্ষী করেছে দুদক। আর আসামিকে সাক্ষী করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মাফরুজা সুলতানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত অর্থ পাঁচার মামলার কার্যক্রম চার সপ্তাহ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।
বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা এই আদেশ দিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করে দিয়েছেন। মাফরুজা সুলতানার পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী টিএইচ খান ও ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
২০১১ সালের ১৬ আগস্ট দুদক হাফিজ দম্পত্তির বিরুদ্ধে মানি লন্ড্রারিং আইনে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় তাদেরকে অভিযুক্ত করে ২০১২ সালের ১২ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযোগপত্র দাখিলের পর তা আমলে নেয় নিন্ম আদালত। এই অভিযোগ আমলে নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাফরুজা সুলতানা হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
২০১৩ সালের ২ জুন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রিভিশন মামলার উপর দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেয়। এরপর বিষয়টি হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে যায়। তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা নিষ্পত্তি করে দেন।
ওই পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার এজাহার ও অভিযোপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় জুলফিকার আলী ও তার স্ত্রী রহিমা আলীর যৌথ অ্যাকাউন্ট থেকে হাফিজ দম্পত্তির সিঙ্গাপুরের অ্যাকাউন্টে অবৈধ উদ্দেশ্যে অর্থ হস্তান্তর হয়েছে। কিন্তু জুলফিকার দম্পত্তিকে এই মামলায় আসামি করা হয়নি। কিন্তু মামলার সাক্ষী হিসেবে জুলফিকার আলীর নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। কেন জুলফিকার দম্পত্তিকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়নি সেটা অবাক লেগেছে। পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, মামলার নথি ও অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পর্যালোচনা করে মনে হয় যে জুলফিকার আলী দম্পত্তি মানি লন্ড্রারিং আইনের ধারা ২(ঠ)(অ)(আ) অনুযায়ী অপরাধ করেছেন। ফলে দুদককে আইনানুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।
হাইকোর্টের এ নির্দেশের পর দুদক ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ একটি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিমেন্সের বাংলাদেশের এজেন্ট জুলফিকার আলী। সিমেন্সকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুবাদে জুলফিকার আলীর হিসাব থেকে হাফিজ ইব্রাহিমের সিঙ্গাপুরের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হিসাবে ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধিত হয়েছে। এ বিষয়ে আলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি প্রমাণের জন্য মানি লন্ড্রারিং আইনে প্রিডিকেট অফেন্স সংঘটিত হতে হবে। এক্ষেত্রে জুলফিকার আলীর মাধ্যমে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো বলেছেন, উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুসারে জুলফিকার আলীকে আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলে বিচারিক আদালতে আলামত উপস্থাপন ও সাক্ষ্য প্রদান করে মামলাটি প্রমাণের মত আর কোন সাক্ষী থাকবে না। মামলা প্রমাণের স্বার্থে অন্য কোন বিকল্প পথ খোলা না থাকায় জুলফিকারকে সাক্ষী করা হয়। জুলফিকারকে আসামি করা হলে বিচারকি আদালতে মামলাটি প্রমাণ করা দুরুহ হবে। এজন্য তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে।
অপরাধ সংঘটিত করার পরেও জুলফিকারকে আসামি না করে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও তা আমলে নেওয়ার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে এই আবেদন করে মাফরুজা সুলতানা।
