পুড়ে গেল শতাব্দী পুরনো মেরী এন্ডারসন

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৪, ২২:২০
 
১৯৩৩ সালে কলকাতা শিপইয়ার্ডে জন্ম তার। ঘুরে বেড়িয়েছে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর বুকে। ব্রিটিশ বাংলা, পাকিস্তান শাসন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সাক্ষী। তার কোলে বসে ঘুরে বেড়িয়েছেন ব্রিটিশ বাংলার গভর্নর। তার কোলে চড়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ঠিক এ বয়সে এসেই তার গায়ে লাগে আগুন।
সেই আগুনে পুড়ল প্রায় এক শতক বয়সী মেরী এন্ডারসন। জীবনের সাড়া নেই তাতে। না, কোন মানবীর গল্প এটি নয়। এককালের বিলাসবহুল প্রমোদতরী ও অধুনা ভাসমান রেস্তোরাঁ ‘মেরী এন্ডারসন’- এর ধ্বংসের ঘটনা এটি। বুধবার রাতে নারায়নগঞ্জের পাগলায় বুড়িগঙ্গায় আগুনে সিংহভাগ পুড়ে যায় শতাব্দী পুরনো এ জাহাজের। ঐতিহ্যবাহী তরীটিকে পুরনো আদলে এনে সংরক্ষণের তাগিদ দিয়েছেন ইতিহাসবিদরা। 
দীর্ঘদিন ধরে যে স্থানে মেরী এন্ডারসন নোঙ্গর করে ছিল সেই স্থানেই জাহাজের অভ্যন্তরে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ আগুন লাগে। নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট সোয়া এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষনে জাহাজটির প্রায় পুরোটাই পুড়ে গেছে। তবে কোন হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মোমতাজ হোসেন জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটি গঠন:
বৃহস্পতিবার বিকালে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান অপরুপ চৌধুরী ভষ্মিভূত জাহাজটি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, জাহাজের নিচ তলায় জেনারেটর ও দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে অগ্নিকান্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় ও জাহাজটি পুরনো আদলে ফিরিয়ে আনতে করণীয় সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।