অ্যালমন্ডার আরেক নাম ঘণ্টা লতা। জন্মস্থান সুদূর ব্রাজিল হলেও আমাদের দেশে অভিযোজনা এতই চমত্কার যে এখন আর বিদেশি মনে হয় না। ভেরি আকৃতির এই ফুলের অক্লান্ত প্রস্ফুটন খুব সহজেই নজর কাড়ে। প্রায় বর্ষব্যপ্ত প্রস্ফুটনের কারণে বর্ণবৈচিত্র্য তৈরির জন্য অনেকেই এই ফুল নির্বাচন করেন। গাছটি কষ্টসহিষ্ণু হওয়ায় প্রায় সারাদেশেই সহজলভ্য। অ্যালমন্ডা (Allamonda cathartica) লতা ঝোপময় গাছ। বড় আয়তনের গাছে একসঙ্গে যখন অনেক ফুল ফোটে তখন ফুলগুলোকে মাইকের মতো মনে হয়। আমাদের দেশে হলুদ ভ্যারাইটির ফুল সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। বেগুনি রঙের আরেকটি ভ্যারাইটি কদাচ দেখা যায়। পাতা ডিম্বাকৃতির এবং উজ্জ্বল সবুজ। কাণ্ড, পাতা বা ডাল ভাঙলে দুধকষ বের হয়। বর্ষার কয়েকমাস গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল ফোটে। ফুল প্রায় সপ্তাহখানেক সতেজ থাকে।
চিরসবুজ এই লতা একটু শক্ত ধরনের হলেও অন্যবাহনে ভর করে অনেক ওপরে উঠতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে এই ফুলের যথেষ্ট ব্যবহার লক্ষ করা যায়। লাল রঙের ভারতীয় প্রজাতিটি শরত্-হেমন্তেও ফোটে। ঢাকার বিভিন্ন পার্ক, উদ্যান ও পথের ধারে এই ফুল সহজদৃষ্ট।
