ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টেস্টগুলোর জন্য স্বাগতিকরা দল ঘোষণার ক্ষেত্রে একটা অলিখিত নিয়ম অনুসরণ করেন— একাদশের বাইরে কোনো সিনিয়র খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে রাখা হয় না। ১১ জনকে রেখে বাকিদের কাউন্টি খেলতে ছেড়ে দেয়া হয়। আর দ্বাদশ ব্যক্তিদের জায়গা পূরণ করেন জুনিয়র খেলোয়াড়রা।
কাছাকাছি একটা ব্যবস্থায় এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াড ঘোষণা করতে চান নির্বাচকরা। জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির একটি সূত্র জানালো, তারা ঠিক ১১ জন না হলেও ১২-১৩ জন খেলোয়াড়কে রেখে বাকিদের প্রিমিয়ারে খেলার জন্য ছেড়ে দিতে চান। প্রয়োজনে স্কোয়াডে এরকম নতুন মুখ দুই-একজন রেখে তাদের ‘পানি টানা’র দায়িত্বটা দেয়া যেতে পারে।
নির্বাচকদের এই চিন্তা বাস্তবায়িত হবে কি না, সেটা আজ-কালের মধ্যেই জানা যাবে। আজই নির্বাচকদের দল বিসিবির কাছে জমা দিয়ে দেয়ার কথা। তবে ব্যাপারটা যদি এরকম প্রথাবিরুদ্ধ না হয়ে স্বাভাবিক ১৪ জনের দল হয়, তাতে আর চমকের কোনো সুযোগ নেই।
জাতীয় দলের সম্ভাব্য কিছু খেলোয়াড়ের নাম কলকাতা সফরের জন্য বিসিবি একাদশে ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে মাশরাফি বিন মুর্তজা, আব্দুর রাজ্জাকের মতো কজন আছেন, যারা টেস্ট খেলছেন না অনেক দিন ধরেই। সে ক্ষেত্রে বাকি থাকা সম্ভাব্য টেস্ট ক্রিকেটারের সংখ্যা আসলে আর ১৪ জনের বেশি নয়। ফলে সেটা একটা অনুমান করা যেতেই পারে।
প্রথমেই দুই ওপেনারের জায়গা। এখানে বিকল্প রাখারই তেমন সুযোগ নেই নির্বাচকদের হাতে। ইমরুল কায়েস এখনো পুরো ফিট নন এবং এনামুল হক বিজয় বিসিবি একাদশের হয়ে কলকাতা যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে হাতে রইলো দুই ওপেনার—তামিম ইকবাল ও সামসুর রহমান। ফর্মে থাকা এই দুই জনই স্কোয়াডে থাকার কথা। তিন ও চার নম্বরে মুমিনুল হক ও মার্শাল আইয়ুবকে একরকম নিশ্চিত মনে করা যেতে পারে। মুমিনুলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তো আলোচনারই সুযোগ নেই। টপ ফোরের বাকী পজিশনটির জন্য মার্শালের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন নাঈম ইসলাম বা মোহাম্মদ মিঠুন। এরা দুই জনই যাচ্ছেন কলকাতা। ফলে মার্শালও একরকম গ্যারান্টেড!
পাঁচ ও ছয়ে মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের ব্যাপারে আলোচনা করার দরকার আছে?
সাত নম্বর পজিশনে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে আলোচনা করা যেত; কিন্তু তিনি মোটামুটি রানে ফিরেছেন। সবচেয়ে বড় কথা- তার যে চ্যালেঞ্জার, নাসির হোসেন তিনি প্রথমবারের মতো টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ছেন, এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। কারণ, নাসিরকেও কলকাতা পাঠানো হচ্ছে।
এ পর্যন্ত একরকম হলেও আট নম্বর পজেশন নিয়ে একটু দোটানা থাকবে। এখানে সম্ভাব্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই স্কোয়াডে থাকার কথা— শুভাগত হোম চৌধুরী ও সাকলায়েন সজীব। যদি তিন জন বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলাতে চায় ম্যানেজমেন্ট, তাহলে সাকলায়েনের টেস্ট অভিষেক হয়ে যেতে পারে। কারণ, বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস সানি কলকাতা যাচ্ছেন। আর স্পিনিং অলরাউন্ডার খেলাতে চাইলে শুভাগত খেলবেন।
নয় নম্বরে, মানে স্পেশালিস্ট বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে অবশ্যই তাইজুলের খেলার কথা। অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট নেয়া এই স্পিনারকে নিশ্চয়ই স্পিনতীর্থ মিরপুরে বাইরে বসিয়ে রাখবে না বাংলাদেশ?
বাকি থাকা ১০ ও ১১, মানে দুই পেসারের জায়গাটাই আসলে সবচেয়ে অনিশ্চিত। এখানে চার জন প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন— রবিউল হোসেন, রুবেল হোসেন, সফিউল হোসেন ও শাহাদাত হোসেন। বলাই বাহুল্য, এর মধ্যে যে কোনো দুই জন খেলবেন প্রথম একাদশে। আর নিতান্তই অবিশ্বাস্যভাবে তিন পেসার খেললে শুভাগত ও সাকলায়েন দুই জনকেই বাইরে থাকতে হবে।
