পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, কৃষিক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি ব্যাপক উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতার পর অনেকে কল্পনাই করতে পারেননি যে, বাংলাদেশ একদিন খাদ্যে স্বয়ংসমপূর্ণ হবে। বিশেষ করে বিদেফশ বন্ধুরা এখনো প্রশ্ন করে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসমপূর্ণ কিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন শুধু খাদ্যে স্বয়ংসমপূর্ণই নয়, বিদেশের বাজারে চাল রপ্তানিও করছে। রবিবার জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান-২০১৪ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ সব কথা বলেন।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, নদী ভাংগন এবং অন্যান্য কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিজমি হারাচ্ছে। এর পরও আমাদের কৃষি উত্পাদন বাড়ছে। এখন বাংলাদেশের কৃষকরা যে শধু ধানই উত্পাদন করছে তা নয়, তারা ফল-মূল, শাক-সবজিসহ নানা ধরনের ফসল ফলাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করেছে। চাহিদা আরো বেশি ছিল। কিন্তু দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ওই পরিমাণ চাল রপ্তানি করা হয়। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, শিল্প, ব্যাংক-বিমা এবং পর্যটন খাতসহ অন্যান্য খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে সত্য। কিন্তু এ সব ছাপিয়ে কৃষি এখনো সবার ওপরে রয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা এসেছে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, কৃষি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনা রয়েছে। লড়াই করে বেঁচে থাকার জন্য তারা কঠোর পরিশ্রম করছে। শুধু কৃষিতে নয়, বাংলাদেশের শ্রমশক্তি বিদেশে গিয়ে পরিশ্রম করে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই ইঁদুর অবশ্যই ফসলের ক্ষতি করে। কিন্তু ফসলের ক্ষতকারক অন্যান্য দিকগুলো নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। নানা প্রকৃতিক কারণেও ফসলের ক্ষতি হয়। পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাবার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায়। এর ফলে জোয়ারের পানিতে ফসলের ক্ষতি হয়। নানা অতিথি পাখিও ফসলের ক্ষতি করে বলে তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের একটি বক্তব্য উল্লেখ করেন। ইঁদুর মেরে ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কৃষি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ মন্ত্রী ইঁদুর মারার জন্য শ্রেষ্ঠ কৃষি কর্মকর্তা, সংগঠন, স্কুল এবং কৃষকদের হাতে ক্রেস্ট এবং নগদ অর্থ তুলে দেন।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্বাস আলী বলেন, ইঁদুর বছরে ১২ থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য নষ্ট করে। ইঁদুর নানা ধরনের রোগ ছড়ায়। এ প্রাণী একেবারে ধ্বংস করা না গেলেও এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ইঁদুর মারার সামাজিক আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। ইঁদুর মারা হলে বাংলাদেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত হবে।
রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আ কা মু গিয়াস উদ্দিন মিলনায়তে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অধিদপ্তরের পরিচালক এস এম সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক নির্মল কুমার সাহা বক্তব্য দেন। এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অডিটোরিয়ামের বাইরে ইঁদুর মারার সামগ্রীর ওপর আয়োজিত প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
