সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত যে কোন দণ্ড মার্জনা বা হ্রাস করার রাষ্ট্রপতির অধিকার নিয়ন্ত্রিত করার চিন্তা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের আভাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। ‘যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে ক্ষমা করার অধিকার রাষ্ট্রপতির থাকিবে না’ এই বিধানটি সংবিধানে সংযোজনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা ভাবতে গা শিউরে উঠে রাষ্ট্রপতি ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। এ সাহস যদি কেউ দেখান তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাবে।
যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের সুযোগ না রাখা, জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন এবং যুদ্ধাপরাধী দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের দাবিতে গতকাল রবিবার আইনমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক ও আইনমন্ত্রীর একান্ত সচিব মাসুদ করীম সচিবালয়ের ফটকে মন্ত্রীর পক্ষে এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। পরে ওই স্মারকলিপি আইনমন্ত্রীর কাছে দেয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভবিষ্যতে কোনো রাষ্ট্রপতি যাতে যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ড মওকুফ করতে না পারেন সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা হতে পারে। এ নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমার কথা হচ্ছে, এই যে প্রক্রিয়া (যুদ্ধাপরাধীদের বিচার) এটা নিয়ে কোন আপোষ নেই। ১৯৭১ সালে যে নৃশংসতা হয়েছিল, যারা এটা করেছেন তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধীরা যাতে কোন ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে না যেতে পারে তাও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, “কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে-কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।” এই অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ফৌজদারি, দেওয়ানী বা সামরিক আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেয়ার অধিকার রাখেন। এখন ওই অনুচ্ছেদে একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হবে। শতাংর্শে উল্লেখ থাকবে–‘তবে রাষ্ট্রপতি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দণ্ড হ্রাস, স্থগিত বা মওকুফ করতে পারবেন না।’
এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনে সংশোধনী এনেছিলো সরকার। ঐ সংশোধনী আনয়নের ফলে সরকার ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার পান। এখন সংবিধান সংশোধন করে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমার অধিকার খর্বের দাবি জানিয়েছে তারা।
