নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত র্যাব-১১ এর সাবেক ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিনকে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগম এই আদেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জানান, সাত খুনের ঘটনায় নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার পালের দায়েরকৃত মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে রুহুলকে আদালতে পাঠায় মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি পুলিশ। আদালতে শুনানি শেষে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির দায়ের করা মামলায় রুহুলকে দুই দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল জানান, গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে সাতজনকে অপহরণের পর তাদের মুখে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে অচেতন ও পরে পলিথিন মুড়িয়ে শ্বাসরোধ করার কাজে ছিলেন রুহুল আমিন। ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া র্যাব সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর পটুয়াখালীর বাউফল এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নাসিকের প্যানেল মেয়র নজরুল, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহূত হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি হত্যা মামলা করে নিহতের স্বজনরা।
প্রসঙ্গত, সাত খুনের মামলায় এ পর্যন্ত র্যাবের ১১ জন সদস্যসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিন র্যাব কর্মকর্তাসহ ১২ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এছাড়াও ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ১৪ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
