সোনালী ব্যাংকের নয়টি শাখায় বিভিন্ন সময়ে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে ব্যাংকটির মহাব্যবস্থাপকসহ (জিএম) ঊর্ধ্বতন ১১ কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার বিকালে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই নোটিশে তাদের ২৮ নভেম্বর এবং ২৯ অক্টোবর দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন শাখা, বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখা, গুলশান শাখা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ করপোরেট শাখা, আগারগাঁও শাখা, সোনালী ব্যাংক লোকাল অফিস, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা, লালদীঘি করপোরেট অফিস এবং নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে সাত হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই নয়টি শাখায় পরিচালিত ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরিদর্শন ও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে অর্থ আত্মসাতের এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। বৈদেশিক বাণিজ্যের নামে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে ও অন্যান্য উপায়ে অনিয়ম করা হয়েছে।
এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন শাখা থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা, লোকাল অফিস ৬০০ কোটি, আগারগাঁও শাখা ১৪১ কোটি, গুলশান শাখা ২৮১ কোটি, বৈদেশিক বাণিজ্য করপোরেট শাখা প্রায় ৩ কোটি, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা ২৫০ কোটি, আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখা প্রায় ৪০০ কোটি, চট্টগ্রামের লালদীঘি করপোরেট শাখা ও নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণের নামে লোপাট করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, আগামী ২৮ অক্টোবর যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন সোনালী ব্যাংক লোকাল অফিসের বৈদেশিক বিনিময় বিভাগের (রপ্তানি শাখা) জিএম এম এ বাতেন, উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) হোসনে আরা বেগম, সহাকরী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. আমিরুদ্দিন, সিনিয়র প্রিন্সিপল অফিসার সাখাওয়াত হোসেন খান, সিনিয়র অফিসার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও মো. নাজমুল আলম।
অপর দিকে ২৯ অক্টোবর যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন সোনালী ব্যাংক লোকাল অফিসের বৈদেশিক বিনিময় বিভাগের (রপ্তানি শাখা) ডিজিএম ফারজানা চৌধুরী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসই্ও) আশরাফুল হায়দার চৌধুরী, কাজী এনামুল হক, সিনিয়র অফিসার মিজানুর রহমান ও অ্যাসিট্যান্ট অফিসার মো. মমিন ভূইয়া।
