খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৪, ১৯:০১
কোর্ট রিপোর্টার
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ তদন্ত করে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শাহাবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেয় আদালত।  মঙ্গলবার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।
এর আগে সকালে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে দন্ডবিধির ১৫৩-ক, ২৯৫-ক ধারায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ নালিশী মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ও রওশন আরা শিকদার।
মামলার আরজিতে বলা হয়, রাজধানীর শাহবাগ থানার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে গত ১৪ অক্টোবর বিকাল আনুমানিক ৫ টায় হিন্দু সমপ্রদায়ের শুভ বিজয়ার অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বেগম খালেদা জিয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী।’ আওয়ামী লীগ সব ধরনের মানুষের উপর আঘাত করে। আর লোক দেখানো ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়। এ জবর দখলকারী সরকারের হাতে কোন ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন আরো বলেন, হরতালের সময় পুরান ঢাকায় বিশ্বজিকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ। নারায়নগঞ্জের ৭ খনের ঘটনায় অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারকে আওয়ামী লীগ ধরে খুন করেছে। এভাবে আমাদের দলে যারা আছে তাদেরকেও হত্যা করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি কারও সম্পত্তি দখল করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাত করেছে। তারা স্বাধীনতার পরও ক্ষমতায় এসে হিস্দুদের জায়গা সম্পত্তি দখল করেছিল।
জবর দখলকারী সরকারি দলের লোকেরা হিন্দুদের উপর হামলা করেছে। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আওয়ামী লীগ হিন্দুদের হামলার সময় বলে, তোরা হিন্দু হয়ে বিএনপি করিস কেন? পরেরদিন ওই বক্তব্য বিভিণ্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। খালেদা জিয়া সকল ধর্মের মানুষের অনুভূতিতে কঠোর আঘাত হানার লক্ষ্যে ইচ্ছাকৃতভঅবে বিদ্বেষাত্মক কাজ করেছেন এবং সরকারের উপর মিথ্যা ও উস্কানীমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বিশৃংখলা সৃষ্টির প্রয়াস চালিয়েছেন। ধৃষ্টতার সীমানা লংঘন করেছেন মর্মে বাদী অভিযোগ করেন।
এদিকে আদালতের আদেশ সাংবাদিকদের অবহিত করার সময় বিএনপি পন্থি আইনজীবীরা এবি সিদ্দিকীকে ধাওয়া করেন। এ সময় পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি নিরাপদে ওই এলাকা ত্যাগ করেন।