একাত্তরে মানবতা-বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হবে কি না, এ সংক্রান্ত আদেশের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ধার্য করেন।
আব্দুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরাম হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মীর সরোয়ার হোসেন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারের পক্ষে অ্যাডভোকেট আবুল হাসান ও রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, তদন্তে সিরাজুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে শুধু সিরাজুল হকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দুটি অভিযোগে যৌথভাবে লতিফ তালুকদার ও আকরাম হোসেনের সংশ্লিষ্টতা ও বাকি দুটি অভিযোগে তিনজনেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সিরাজুল হকসহ তিন আসামিই এখন কারাগারে আছেন। গত ১০ জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওই রাতেই আবদুল লতিফ বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার হন। আকরাম হোসেন এলাকা ছেড়ে পালালেও ২০ জুন তাকে রাজশাহী থেকে গ্রেফতার করা হয়। আর আত্মগোপনে থাকা সিরাজুল হক ২১ জুলাই বাগেরহাট সদর থানার ডেমা গ্রাম থেকে গ্রেফতার হন।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার অফিসে প্রসিকিউটর সাইয়্যেদুল হক সুমন ও শেখ মুশফিক কবির তাদের বিরুদ্ধে এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।
সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার এবং তার দুই সহযোগী আব্দুল লতিফ তালুকদার ও আকরাম হোসেন খান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাগেরহাটের কচুয়ায় শাঁখারিকাঠি বাজারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি মামলার আসামি। এদের মধ্যে সিরাজ মাস্টার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন এবং তিনি ‘বাগেরহাটের কসাই’ বলে কুখ্যাত।
বাগেরহাটের এই তিন আসামির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্মান্তরসহ ৯টি ভলিউমে ৫ খণ্ডে কেস ডায়েরি করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। মোট আটটি মানবতা-বিরোধী অভিযোগ একসঙ্গে দাখিল করা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে সিরাজ মাষ্টারের বিরুদ্ধে ছয়টি এবং আব্দুল লতিফ ও খান আকরামের বিরুদ্ধে ৪টি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী করা হয়েছে জব্দ তালিকার ৪ জনসহ ৬৮ জনকে।
তদন্ত চূড়ান্ত করে গত ২৫ আগস্ট এ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা। তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত দল দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রসিকিউশন এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এ।
তাদের বিরুদ্ধে ৯টি খণ্ডে মোট ৮শ’ ৪৪ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ৬৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত সংস্থা।
