প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অংশ হিসেবে লেখাপড়ায় মনোযোগি হওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় শিশু-কিশোরদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে একাত্তরের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশকে তুলে দিতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তবে পঁচাত্তরের পরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের যেমন যথেচ্ছ বিকৃতি ঘটেছে, ভবিষ্যতে তা আর ঘটবে না। দেশের সকল শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দাবা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং এসএসসি পরীক্ষার কৃতি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ছোট ভাই শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনুষ্ঠানে বার বার আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বেঁচে থাকলে রাসেলের বয়স ৫০ বছর হতো। কিন্তু ঘাতকের বুলেট তাকে বাঁচতে দেয়নি।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হয় শেখ রাসেল। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। ওই সময় জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা। অনুষ্ঠানে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, একবার ভেবেছিলাম, শেখ রাসেলকে সাথে নিয়ে যাব। মা-বাবা ওকে ছাড়তে চায়নি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব থেকে কষ্টের হলো, শেখ রাসেলকে বাবার লাশের পাশ দিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কি অপরাধ ছিল রাসেলের? আসলে ঘাতকরা জাতির পিতার শেষ চিহ্নটি পর্যন্ত রাখতে চায়নি। রাসেলবিহীন ৩৯ বছরের বেদনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এখন নতুন প্রজন্মের মাঝেই আমি আমার রাসেলকে খুঁজে পাই।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের চেয়ারম্যান রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ-উস সামাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেশত্ববোধক গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দর্শক সারিতে বসে এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
