ঝালকাঠির তরুণ লিমন হোসেনের পঙ্গুত্বের জন্য দায়ী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র্যাব) সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। নিউইয়র্ক-ভিত্তিক সংস্থাটির ওয়েবসাইটে স্থানীয় সময় সোমবার প্রকাশিত ‘নো জাস্টিস ফর ওন্ডডেড চাইল্ড’ শীর্ষক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়— কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু তার ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। সরকারের উচিত স্বাধীনভাবে তদন্ত করা এবং দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা।
এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়— র্যাব সদস্যদের নিরাপত্তা অভিযানে ভুল করে কলেজ-ছাত্র লিমনের ওপর গুলি চালানো হয় ২০১১ সালে ২৩ মার্চ। চার দিন পর তার জীবন বাঁচাতে একটি পা কেটে ফেলতে হয়। পরে র্যাব স্বীকার করেছিল— দুর্ঘটনাবশত লিমন আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তখন লিমনের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বরং তাকেই কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত করে। র্যাবকে জবাবদিহি থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে এটা করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন— এটা ভালো যে লিমনকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। যে সব র্যাব সদস্য লিমনকে গুলি করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ এনে যারা বিচারপ্রক্রিয়াকে ভুল পথে চালিত করেছিল, তাদেরও বিচার করা দরকার।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়— বাংলাদেশে কয়েক শ বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র্যাব দায়ী। কিন্তু সফলভাবে কোনো র্যাব সদস্যের বিচার এখনো হয়নি। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় দোষী র্যাব সদস্যদের বিচারের মাধ্যমে এ ধরনের দায়মুক্তির চক্র থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে বিশেষ বাহিনী হিসেবে যাত্রা শুরু করে র্যাব। এরপর গত এক দশকে বিএনপি, সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগ সরকার— সব আমলেই এই বাহিনী ‘দায়মুক্তি’ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুতর ও পদ্ধতিগত ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটেছে বলে মনে করে এইচআরডব্লিউ। র্যাব বিলুপ্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করে পরিচালক অ্যাডামস বলেন— র্যাব একটি ডেথ স্কোয়াড, যার সংস্কার সম্ভব নয়। সরকারের উচিত র্যাব থেকে সব সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য প্রত্যাহার করে নেয়া এবং এটিকে সম্পূর্ণ একটি বেসামরিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্ট র্যাবের হাতে গুম, হত্যা ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানানো হয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
