ব্যক্তিগত বিরোধ ও পারিবারিক কলহের কারণে খুন ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে এরকম ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূ ও এক গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জে পুত্রের হাতে পিতা ও ময়মনসিংহে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়েছেন। নরসিংদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর অদূরে সাভার ও আশুলিয়া থেকে দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাজধানীর ভাষানটেক থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৯ টার দিকে পশ্চিম ভাষানটেকের ২১ নম্বর বাড়ি থেকে গৃহবধূ সালমা খাতুনের (২২) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার স্বামীর নাম মিলন হোসেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কালিগঞ্জ থানার ফুলদিঘিয়াপাড়া গ্রামে। সালমা ভাষানটেক সিআরপি হাসপাতালে আয়ার কাজ করতেন। রাত্রে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে স্বামী ঘুম থেকে জেগে তার স্ত্রীর লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
দারুস সালাম থানা এসআই খোকন চন্দ্র দেবনাথ জানান, একই দিন সকাল ১০টার দিকে দারুস সালাম এলাকার বর্ধনবাড়ির ৪৪ নম্বর বাড়ি থেকে গৃহবধূ জোহরা খাতুনের (৫০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার স্বামীর নাম আতর আলী। নিহতের বাড়ি শেরপুরের নকলা থানার আজমপুর গ্রামে। পারিবারিক কলহের কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতের ছোট ভাই আব্দুল আলিম জানান, জোহরা তিন সন্তানের জননী। সংসারে অভাব-অনটন ছিল। এ কারণে জোহরা আত্মহত্যা করতে পারেন।
বনানী থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার আর-১/এ নম্বর রোডের ৪০ নম্বর বাসা থেকে গৃহকর্মী জেসমিন আক্তারের (১৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঐ বাসার গৃহকর্তা মিজানুর রহমান পেশায় ব্যবসায়ী। ঘটনার সময় তিনি বাসাতেই ছিলেন। গৃহকর্মী জেসমিনের বাবার নাম এনামুল। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। এ ঘটনায় বনানী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গতকাল সকালে সাভারে একটি বাণিজ্যিক কার্যালয় ও আশুলিয়ার ডেন্ডাবর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছেন, সাভারে মনসুর মার্কেটে অবস্থিত ‘খান রেন্ট এ কার’ এর ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম (৪৫) ও আশুলিয়ার স্কাইলাইন নামের তৈরি পোশাক কারখানার আয়রণম্যান মনিরুল ইসলাম (২৭)। শহিদুল আশুলিয়ার ভাদাইল গ্রামের শামছুল ইসলামের ছেলে। মনিরুল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার মহেন্দ্রপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত চারদিন ধরেই ‘খান রেন্ট এ কার’ তালাবদ্ধ ছিল। গতকাল সকালে দরজা গড়িয়ে রক্ত বের হলে মার্কেটের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের নজরে আসে। দরজা ভেঙ্গে অফিসে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো অবস্থায় শহিদুল ইসলামের মৃতদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। অন্যদিকে আশুলিয়ার উত্তরপাড়া এলাকার খোকনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় মনিরুলের লাশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার থানার ওসি মোস্তফা কামাল ও আশুলিয়া থানার ওসি আজাহারুল ইসলাম। মৃতদেহ দুইটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানান।
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে পুত্রের হাতে পিতা আব্দুল মছব্বির (৭০) খুন হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের শেওড়া গ্রামে। এলাকাবাসী ঘাতক পুত্র দিলোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত দিলোয়ার এ্যালুমিনিয়ামের জগ দিয়ে ঘাড়ে ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মছব্বির মিয়া প্রাণ হারান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ত্রিশালে পারধানীখোলা গ্রামের মৃত নায়েব আলী মেম্বারের ছেলে শাজাহানের (৩২) সাথে জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার আব্দুর রহমানের মেয়ে কনিকার (২৮) দশ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুইটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঝগড়া হতো। গত মঙ্গলবার রাতেও শাজাহানের সাথে কনিকার ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে শাজাহান উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ঘাতক শাজাহানকে ধরে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে বাড়ি দখলে বাধা দেয়ায় সন্ত্রাসীরা হযরত আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডি সিটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হামলায় গুরুতর আহত হযরতের ভাই নাছির উদ্দিনের (৪৫) অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
গ্রামবাসী জানান, গ্রামের মৃত আক্কাছ আলীর পুত্র হযরত আলী ও নাছির উদ্দিনের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কাদির মিয়ার জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
