নিষিদ্ধ পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাটের বস্তার ব্যবহার বাড়াতে কম দামে বস্তা সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। ছোট সাইজের প্রতিটি বস্তা উত্পাদনে ৩৬ টাকা ব্যয় হলেও তারা বিক্রি করছে ৩২ টাকায়। এছাড়া ৫৮ টাকা মূল্যের বড় সাইজের বস্তা এখন দাম কমিয়ে ৫৩ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিজেএমসি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন খালেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, দেশে পাটের বস্তার বিশাল বাজার রয়েছে। এই বাজার ধরতেই কম দামে বস্তা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া দামও কমানো হয়েছে। যাতে করে ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে সরে এসে পাটের বস্তা ব্যবহার করেন।
উল্লেখ্য, পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে ২০১০ সালে আইন করা হলেও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠানই তা মানছে না।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বিজেএমসি দেশে উত্পাদিত পাটের ১৬ শতাংশ ক্রয় করে থাকে। এই হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ বেল পাট ক্রয় করা হয়। পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন পুরোপুরি কার্যকর হলে পাট ক্রয়ের পরিমাণ আরো বাড়বে। এছাড়া ধান, চাল, সার ও চিনি-তে পাটের মোড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করলে বছরে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি পাটের বস্তা প্রয়োজন হবে।
সম্প্রতি ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’ পরিচালিত ‘জুট অ্যান্ড বাংলাদেশ ইকোনমি’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে বার্ষিক পাটের ব্যাগের চাহিদা ৯০ হাজার পিস থেকে বেড়ে ৮৪ কোটি পিসে উন্নীত হবে। এ প্রসঙ্গে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রাখাল চন্দ্র বর্মণ ইত্তেফাককে বলেন, চাল, গম, ভূট্টা, সার ও চিনি প্যাকেটজাতের ক্ষেত্রে অবশ্যই পাটের মোড়ক ব্যবহার করতে হবে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের সাথে চুক্তি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা ১০০ শতাংশ পাটের বস্তা ব্যবহার করবে। তবে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন এবং বেসরকারি চিনি মিলগুলো ৫০ শতাংশ পাটের বস্তা ব্যবহার করবে। দেশেই যদি আমরা পাটের সর্বোচ্চ ব্যবহার করি তাহলে কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাবে বলে তিনি মনে করেন।
সাড়া কম ব্যবসায়ীদের:এদিকে বিজেএমসি পাটের বস্তার দাম কমালেও ব্যবসায়ীদের তেমন সাড়া নেই। পাটের মোড়ক ব্যবহারে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করলেও এখনো দেদারসে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্লাস্টিকের বস্তা দামে সস্তা ও সহজলভ্য। অন্যদিকে পাটের বস্তার দাম বেশি।
বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এ কে এম খোরশেদ আলম খান বলেন, আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাটের বস্তা ব্যবহার শুরু করেছি। তবে পাটের বস্তার দাম বেশি ও সহজলভ্য নয়।
এ প্রসঙ্গে বিজেএমসির চেয়ারম্যান বলেন, পাটের বস্তার দাম বেশি মনে হলেও একটি পাটের বস্তা কয়েকবার ব্যবহার করা যায়। এছাড়া তা পরিবেশবান্ধব। তিনি বলেন, এখন বিজেএমসি কম দামে পাটের বস্তা বিক্রি করছে। আর কার্যাদেশ দেয়ার সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে পাটের বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে।
