বাংলাদেশ রেলওয়ে চারটি জোনে ভাগ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৪, ১৭:১৩
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের ভৌগলিক অবস্থা এবং জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করে রেল সেক্টর উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েকে (বিআর) চারটি জোনে ভাগ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ আমলে সেই সময়ের প্রয়োজন বিবেচনা করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে পূর্বাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় দুটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছিল। এখন রেল সেক্টরের ও রেলের সেবার মান উন্নয়নে বাংলাদেশ রেলওয়েকে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম এই চারটি জোনে ভাগ করা হবে।
শেখ হাসিনা সারাদেশে রেল যোগাযোগ ও সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে প্রতিটি স্থল ও সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে সকল রেললাইন নির্মিত হবে ডুয়েল গেজে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার কিছু সংখ্যক দাতা সংস্থা ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ষড়যন্ত্র থেকে রেল সেক্টরকে উদ্ধার করেছে। ভবিষ্যতে আর কখনোই দাতাদের পরামর্শে রেলের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না। দেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প নেয়া হবে। 
প্রধানমন্ত্রী আজ রেল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন। 
অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী এম মুজিবুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মনসুর আলী সিকদার এবং মন্ত্রণালয়ের ও প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। 
শেখ হাসিনা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে তাঁর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ রেল মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে আসেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধাসমূহ অপসারণে পরামর্শ দেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকান্ড আরো গতিশীল করতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করছেন। তার এই পরিদর্শন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ রেল মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার নৌ পরিবহনের মতো রেলওয়েকে গুরুত্ব দিয়ে রেল মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। স্বল্প খরচে রেলে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব। এ জন্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংক সবসময়ে যমুনা সেতু নির্মাণে নিরুৎসাহিত করেছে। তারা বলেছে, এ সেতু লাভজনক হবে না। তবে আমরা সকল তথ্য যাচাই বাছাই করে আমরা এই সেতু নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলাম। বিশ্ব ব্যাংক এখন যমুনা নদীর উপর আরো একটি পৃথক রেল সেতু করার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, যমুনা নদীর উপর একটি পৃথক রেল সেতু নির্মাণ করার পরিকল্পনা তাঁর সরকারের রয়েছে। 
তিনি আরো বলেন, গাইবান্ধা ও জামালপুরের যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে বালাশি ঘাট পর্যন্ত একটি ট্যানেল নির্মাণের পরিকল্পনাও তাঁর সরকারের রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ট্রান এশিয়া নেটওয়ার্ক ও এশীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগের জন্য উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রী দোহাজারি থেকে কক্সবাজার গুনদুম পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই রুটে মিটার গেজ লাইনের পরিবর্তে ডুয়েল গেজ লাইন নির্মাণের জন্য বর্তমান প্রকল্প প্রস্তাবটি পরিবর্তন করতে হবে। বাসস