তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে : আইনমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৪, ১৭:৫৫
 
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনগত প্রতিকার ও সমস্যা লাঘব করতে সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্রমভবনে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য সরকারি আইনী তথ্যসেবা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। 
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, ইউএনডিপি’র চিফ টেকনিক্যাল এডভাইজার ক্রিস্টিয়া এ্যালডন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। 
মন্ত্রী বলেন, ‘আইনগত সহায়তা বা প্রতিকার পাওয়ার পূর্ববর্তী ধাপ হলো সঠিক তথ্য সংগ্রহ। সঠিক তথ্য মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যায়। তথ্য মানুষকে সঠিক পথ পদ্ধতি বলে দিতে পারে। তথ্যের উপর নির্ভর করে মানুষ পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়।’ 
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ প্রবাসে জীবন-যাপন করছেন। তারা প্রতিবছর ১৪.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে পাঠান। অথচ প্রবাসীদের বড় অংশই নিরক্ষর বা স্বল্পঅক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন। আইনগত সচেতনতাতো দূরের কথা, নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও তারা সচেতন নন। এ কারণে অধিকাংশ সময়ই তারা আইনগত তথ্যপ্রাপ্তি ও সেবা থেকে বঞ্চিত হন। 
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অভিবাসীরা কার্যত যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে অথবা বাংলাদেশের আইনে প্রতিকারযোগ্য। কিন্তু অধিকাংশ অভিবাসী এসব আইনকানুন সম্পর্কে জানেন না। আবার কেউ জানলেও প্রতিকারের জন্য কোথায় কীভাবে আইনগত আশ্রয় চাইতে হবে- তা বুঝতে পারেন না।’ 
তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে প্রবাসে থাকার কারণে দেশে তাদের পরিবারের সদস্যরা অসহায় এবং অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন। পারিবারিক বিষয়ে বা সম্পত্তির জটিলতা বা দুর্ভোগের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও প্রবাসীদের পরিবার আইনগত তথ্য ও পরামর্শের অভাবে কাক্সিক্ষত প্রতিকারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। দেশের ৬৪ জেলায় স্থাপিত অফিস থেকে যে আইনগত সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হয়- তা তারা অনেকেই জানেন না। অথচ একটি আইনগত তথ্য বা পরামর্শ বহু সমস্যা সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে। 
আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের সমস্যাগুলো গুরুত্বসহ অনুধাবন করার কারণে এবং প্রবাসীদের সহজ সেবা প্রদানের আন্তরিকতার ফসলই এই তথ্যসেবা কার্যক্রম।