‘আপনার ডাকে তো মানুষ আসছে না। আপনার জনসভায়ও মানুষ আসে না। অথচ যাদের সমালোচনা করছেন, সেই আওয়ামী লীগ-বিএনপির জনসভায় তো দলে দলে লোকজন যায়। আসলে বাস্তবতা হচ্ছে রাজনীতি ওই দুটি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’
বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে সরাসরি এই মন্তব্য ছুড়েন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন (এপি’র সাবেক ব্যুরো প্রধান)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেইলি রোডে কামাল হোসেনের বাড়ির আঙ্গিনায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তার ডান পাশে বসেই ফরিদ এই মন্তব্য করেছিলেন।
ড. কামালের উদ্দেশে ফরিদ হোসেন আরও বলেন ‘যেখানে হালুয়া-রুটি সবাই সেখানেই যায়। এই যে আজ প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করছেন, যারা দাওয়াত পেয়েছেন তারা সেখানেই গেছেন। দাওয়াত পেলে আমিও এখানে না এসে গণভবনেই যেতাম। প্রধানমন্ত্রী তো তার বিদেশ সফর নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু আমরা সাংবাদিকরা কী করি! প্রশ্ন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্তুতি করি। তারাই আবার আপনার এখানে আসলে বলবে-আমরা আপনার সাথেই আছি। এই যে আপনি এতক্ষণ বললেন-জনগণ ঐকমত্য হয়ে আছে। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে, যা হবার হয়ে গেছে, এখন আরেকটি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, কারও জন্য রাস্তায় নামবো না-জনগণের মধ্যে এই ধরনের ঐকমত্যও তো হয়ে আছে।’
ফরিদ হোসেনের পর ড. কামালের বাম পাশে বসা যুগান্তরের সহকারী সম্পাদক মাহবুব কামাল তার উদ্দেশে বলেন ‘আপনি ধানম্লিতে নির্বাচন করে হারলেন কেন? ওটা তো শিক্ষিত লোকের এলাকা। আপনার তো জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। এটা কেন।’
এই দুই সাংবাদিকের মন্তব্যের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রশ্নগুলো প্রাসঙ্গিক। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা করা দরকার। এর সবকিছুই রুগ্ন রাজনীতির ফল। এটা গুরুতর রোগ। এই রোগ থেকে দেশকে মুক্ত করা দরকার। গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের সবার দুর্বলতা আছে কিনা, সেটিও দেখা দরকার। রাজনীতি এখন বড় লোক হবার সবচেয়ে সহজ পথ। আগে দেখা হত রাজনীতির পাশে আয়ের অন্য কোনো উত্স আছে কিনা। এখন আপনি রাজনীতিবিদ কাকে বলবেন? এই সংসদে এখন যে ৩০০ জন বসে আছেন তারা কারা? এখন তো টাকা দিলেই দিনেদিনে রাজনীতিবিদ বনা যায়। জনগণের অধিকারকে জ্যান্ত কবর দেয়া হয়েছে। কষ্ট লাগে। এখানে মানুষের কথার কোনো গুরুত্ব নেই। সংবিধানে জনগণ ক্ষমতার মালিক হলেও তাদেরকে প্রজা বানিয়ে রাখা হয়েছে। ইচ্ছা করলেই তো কেউ জনগণের মালিকানা বাতিল করতে পারে না, এটিই তো ছিল স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য। গণতন্ত্র আজ হারিয়ে গেছে। এই অবস্থা থেকে বের হতে জাতীয় ঐকমত্য দরকার।’
