বাল্টিক সাগরে একটি রুশ গোয়েন্দা বিমানের চলাচল বন্ধ করে দিল নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর একটি বিমান। পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, ভূ-মধ্যসাগরে উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই বিমানটিকে আটকে দেয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।
ন্যাটো জানায়, মঙ্গলবার ইলিউশিন-২০ নামের বিমানটি বাল্টিক সাগরের উপকূলের কালিনিনগ্রাদ নামক স্থান থেকে যাত্রা করে রুশ বিমান। এরপর ডেনমার্কের এফ-১৬ বিমান তার গতিপথ আটকে দেয়। রুশ বিমানটি সুইডেন যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পর্তুগালের একটি বিমান রুশ বিমানটিকে এসকর্ট দিয়ে নিয়ে যায়। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, বিমানটি এস্তোনিয়ার আকাশপথে প্রবেশ করেছিল এবং কমপক্ষে এক মিনিট অবস্থান করছিল। এর আগে এস্তোনিয়া কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছিল, রাশিয়া তাদের আকাশপথে অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। যদিও রাশিয়া সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবারের বিমানটি প্রশিক্ষণে ছিল এবং এস্তোনিয়ার আকাশপথে প্রবেশ করেনি। বুধবার এস্তোনিয়ায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে এই অভিযোগে তলব করে দেশটির সরকার। গত মাসে এস্তোনিয়া অভিযোগ করে, রাশিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের একজন নিরাপত্তা কর্মীকে অপহরণ করেছে। ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বন্দ্ব চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ তার মিত্রদের। অভিযোগ আছে, রাশিয়ার সমর্থণেই বিদ্রোহীরা ইউক্রেনে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনী তথা সাধারণ জনগণের ওপর হামলা চালায়। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়। রুশ বিদ্রোহীদের ছোড়া গুলিতে একটি বিদেশি বিমান বিধ্বস্ত হলে ২৯৮ আরোহীর সবাই নিহত হয়। এনিয়ে সারা বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া পুনরায় সোভিয়েত ইউনিয়নযুগে প্রবেশ করতে চায়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে আবার নিজেদের কব্জায় আনার চেষ্টা করছে রাশিয়া।
