ধর্ষণের শিকার শিশুকেই করা হলো বেত্রাঘাত

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৪, ০০:৩২

আট-নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর ৩ ঘণ্টার মধ্যে হয়ে গেলো ‘বিচারকার্য’। ‘বিচারে’ শিশুটি সুবিচার তো পেলোই না বরং তাকেই করা হলো ৫০টি বেত্রাঘাত। আর ধর্ষণকারীকে করা হলো মাত্র ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, সঙ্গে ৫০টি বেত্রাঘাত। শিশুটির স্কুলের নৈশপ্রহরী আরিফ হাওলাদারই(২৬) ধর্ষণকারী।

সালিশ কমিটির মাধ্যমে প্রহসনের এ বিচারের দায়িত্বে ছিলেন, চর বিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মিজানুর রহমান মিলন, আবু সাঈদ মৃধা, আঃ রব মেলকার প্রমুখ। আর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিশির কুমার পালের বক্তব্য, তাকে এখনো কেউ এ ঘটনা জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের দিনমজুর বাবার মেয়ে ঐ শিশুটি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। দরিদ্রতার কারণে থাকতো চর বিশ্বাস গ্রামে নানা বাড়িতে। বুধবার রাতে আরিফ ঐ ছাত্রীর নানা বাড়িতে গিয়ে তাকে বাগানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় বাড়ির লোকজন আরিফকে ধরে গণধোলাই দিয়ে চর বিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার মিজানুর রহমান মিলন খলিফার বাড়িতে নিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে ঐ বাড়িতে মিলন মেম্বার, আবু সাঈদ মৃধা, আ. রব মেলকারের নেতৃত্বে সালিশে বসে। সালিশ কমিটি ঐ ছাত্রীকে ৫০টি বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেয়। আরিফকেও ৫০ বেত্রাঘাত ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এব্যাপারে সালিশ কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, আরিফ অসুস্থ থাকার কারণে তাকে কম বেত দেয়া হয়েছে।