‘কোনো দেশ বর্তমান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি’ বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, ‘এ সব দায়িত্বহীন কথাবার্তা। সম্প্রতি দুটি আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামের শীর্ষ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছে। স্বীকৃতি না পেলে এ সব বৈশ্বিক নির্বাচনে কিভাবে জিতলাম? এ জয়ের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রকাশ পেয়েছে।’ শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার নীলফামারিতে এক জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশ এই অবৈধ সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। শুধু ফটোসেশন, ছবি তুললে মনে করবেন না স্বীকৃতি পাওয়া যাবে। গণতন্ত্র না থাকলে কোনো দেশ কাউকে স্বীকৃতি দেয় না।’
আসন্ন সফর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইউএইর সম্পর্কে গতি ফিরেছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে আগামীতে এ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর আমিরাতে এই শীর্ষ পর্যায়ের সফর হতে যাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ, দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ়করণ এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউএই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার। দেশটিতে বর্তমানে বিপুল-সংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কমর্রত আছেন। বাংলাদেশ থেকে আরো অধিক-সংখ্যক বাংলাদেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউএইর নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য-বৈষম্য কমানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো, উচ্চতর শিক্ষা, পর্যটন, জ্বালানি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইউএইর ভবিষ্যত্ সহযোগিতা বিষয়েও এ সফরে আলোচনা হবে বলে তিনি জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, সচিব (দ্বিপাক্ষিক, প্রক্ষিণ ও কনস্যুলার) মুস্তাফা কামাল ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
