বর্ধমান বিস্ফোরণে জেএমবি’র সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে এনআইএ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৪, ০০:৫০

ভারতের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণে জামায়াত-উল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে সন্ত্রাসী ঘটনার তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। গতকাল সংস্থার মহানির্দেশক শরদ কুমার বিস্ফোরণস্থল আর তদন্তে উঠে আসা বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখেন। বর্ধমানে তৈরি হওয়া বোমাগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই তৈরি করা হচ্ছিল বলেও এনআইএ জানিয়েছে।

এনআইএ জানিয়েছে যে, তারা বর্ধমানের খাগড়াগড়ে ২ অক্টোবরের বিস্ফোরণের প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছে। দুই মহিলাসহ তিনজনকে তারা গ্রেফতার করতে পেরেছে আর চতুর্থ ব্যক্তি বিস্ফোরণে আহত হয়ে এখনো হাসপাতালে। শাকিল আহমেদ এবং শোবহান মন্ডল নামে যে দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন তারাও বাংলাদেশের নাগরিক বলেই একরকম নিশ্চিত এনআইএ। আরও এক ব্যক্তি এখনো পলাতক।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ও বর্ধমান, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র, ফোন রেকর্ড প্রভৃতি ঘেঁটে এনআইএ নিশ্চিত যে, এরা জেএমবির সদস্য। বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই নিষিদ্ধ ওই সংগঠনটির সদস্যরা অত্যাধুনিক বোমাগুলো তৈরি করছিলেন।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি রিপোর্ট দিতে হবে এনআইকে। তাই প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পরে এনআইএ’র ডি জি শরদ কুমার নিজে একবার সব জাগাগুলো ঘুরে দেখেন শুক্রবার। বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ দুই জেলাতেই গিয়েছিলেন তিনি। পরে সংস্থার তদন্তকারীদের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেন। এছাড়াও তদন্তের পরবর্তী ধাপ আর স্ট্রাটেজি নির্ধারণও তার গতকালের এজেন্ডায় ছিল।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণের মাধ্যমে যে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়া যাচ্ছে সেটা বাংলাদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড বা তেলেঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই তদন্তে সন্ত্রাস মোকাবিলা বাহিনী এনএসজি-র বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন। যে ধরনের বিস্ফোরক এখানে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেটাতেও যথেষ্ট অবাক হয়েছেন তদন্তকারীরা। হাসপাতালে ভর্তি থাকা আব্দুল হাকিমকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করাটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এনআইএ-র কাছে। সে বিস্ফোরণ স্থলে থাকায় তাকে জেরা করে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া যেসব অভিযুক্ত পালিয়ে রয়েছেন তাদের খুঁজে বের করাও এনআইএ-র কাজ।

জেএমবির এই নেটওয়ার্ক যেমন খুঁজে বের করতে চাইছে এনআইএ, তেমনই জেএমবি’র এই নেটওয়ার্কের অর্থায়ন কীভাবে হতো সেটাও খুঁজে বের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনআইএ। আর তথ্য পাওয়ার জন্য আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হবে।