অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক: পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার বেড়েছে

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৪, ১৮:২৯
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই সামগ্রিক পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও নিষ্পত্তির হার বাড়ছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ এর আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসে আগের মাসের তুলনায় ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার উভয়ই কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী— আলোচ্য সময়ে পণ্য আমদানির ওপর ঋণপত্র খোলা হয়েছে এক হাজার ছয় কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময় শেষে ছিল ৯৫৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। সেই হিসাবে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে আমদানি পণ্যের ওপর ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। যদিও গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। একইভাবে পণ্য আমদানিতে ৯২৬ দশমিক ৩৬ কোটি ডলারের ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৭৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এতে করে আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তির হার বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা এর আগের বছর বেড়েছিল ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। সামনে বিনিয়োগসহ কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। এতে করে ঋণপত্র খোলার পাশাপাশি বেড়েছে নিষ্পত্তির হার।
এ দিকে, একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে সব ধরনের পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার উভয়ই কিছুটা কমেছে। আলোচ্য সময়ে ২৯৩ কোটি ৫১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পণ্যের ঋণপত্র খোলা হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৩৪৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ কমেছে ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। যদিও গতবছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ঋণপত্র খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ২৮৩ দশমিক ৭৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্যের ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম। তবে গতবছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী— সেপ্টেম্বর মাসে মূলধনী যন্ত্রাংশের জন্য ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের মাস আগস্টের তুলনায় কিছুটা কম। ব্যাক টু ব্যাকের পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৫৪ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৮ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। পোশাক শিল্পে ব্যবহূত রাসায়নিক পণ্য আমদানিতে ২১ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। খাদ্যপণ্যের মধ্যে চাল আমদানিতে তিন কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার ঋণপত্র খোলা হলেও ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে দুই কোটি ৯৯ লাখ ডলার। গম আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে পাঁচ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, খোলা হয়েছে সাত কোটি ডলার। চিনি আমদানিতে পাঁচ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে তিন কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া, পরিশোধিত তেল আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে পাঁচ কোটি ৩১ লাখ ডলারের, নিষ্পত্তি হয়েছে ছয় কোটি ৫৫ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে অন্যান্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৭৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার আর নিষ্পত্তি হয়েছে ৭৮ কোটি ৯৯ লাখ ডলার।