সিপিডির গবেষণা

একজন নারীর রোজ ১২.১টি কাজ জাতীয় আয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় না

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৪, ১৯:০৮
 
 
 
 
দেশের অর্থনীতিতে নারীর অবদান ক্রমান্বয়ে বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার মূল্যায়ন হয় না। এক গবেষণায় দেখা যায়— একজন নারীর প্রতিদিন ১২.১টি কাজ জাতীয় অর্থনীতিতে অর্ন্তভুক্ত করা হয় না। পুরুষের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ২.৭টি। সামাজিক অবস্থা, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, নারীর প্রতি বৈষম্য. অশিক্ষা প্রভৃতি কারণে নারীর শ্রমকে যথাযথভাবে স্বিকৃতি দেয়া হয় না বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনরা। এ গবেষণায় আরো বলা হয়— অনেক নারীর পরিবার চায় না তারা পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করুক, তাদের আয়ে নিজেদের অধিকার নেই। শহর ও প্রান্তিক অঞ্চলের নারীরা বহুমাত্রিক কাজ করলেও তা পার্টটাইম কাজ এবং মূল্যায়নও হয় না। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ‘জাতীয় আয়ে নারীদের অবদান নিরূপন প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গবেষণা পরিচালনা করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অঅর্থনৈকিত ও স্বীকৃতিহীন আর্থিক মূল্য নিরূপন এবং মোট দেশজ উত্পাদন বা জিডিপির মানদণ্ডে তার তুলনা করার উদ্দেশে এ গবেষণা করা হয়।
সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এ এইচ এম মুস্তাফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম। বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিস মহাপরিচালক মুস্তফা কে মজুরি। গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন গবেষণা দলের প্রধান ড. ফাহমিদা খাতুন। গবেষণা পত্রের প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. শায়মা হক বিদিশা। স্বাগত বক্তব্য দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। আরোও বক্তব্য দেন আইন শালিস কেন্দ্রের চেয়ারপারসন হামিদা হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, নারী প্রগতী সংগের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, নারী নেত্রী মালেকা বেগম পমুূখ।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এ এইচ এম মুস্তাফা কামাল বলেন, সমান যোগ্যতা থাকলে নারী— পুরুষের মজুরি বৈষম্য সরকার করবে না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি সরকারের নারী উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা তুলে ধরেন, যা ধরে রাখতে এই জরিপ কাজে লাগবে বলেও উল্লেখ করেন। নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন— সবার সহযোগিতায় তা আরো এগিয়ে নেয়া যাবে।
এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক খাতে মজুরি-ভিত্তিকভাবে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি সালমান জায়েদি নারী নির্যাতন ও বৈষম্য দূর করে অর্থনৈতিক খাতে নারীকে অর্ন্্তভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলেন। নারী নেতৃবৃন্দ নারী নির্যাতন বন্ধ করে নারীর অর্থনৈতিক মর্ককাণ্ডের স্বীকৃতি দানের আহ্বান জানান। তারা এই গবেষণাকে তাদের অ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইন অর্ন্তভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন গবেষণাপত্রে বলেন— জরিপ অনুসারে প্রতিস্থাপন পদ্ধতি বা কাজের দ্বারা মূল্য ব্যবহার করে দেখা যায় নারীদের কাজের যে মূল্য অন্তর্ভুক্ত হয় না তার পরিমাণ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপির প্রায় ৭৬.৮ শতাংশ। একইভাবে গ্রহণযোগ্য মূল্য পদ্ধতি অনুযায়ী ওই কাজের বার্ষিক মূল্য ৮৭.২ শতাংশ সমপরিমাণ। ওই কাজের মূল্যমান নারীদের মোট আয়ের ২.৫ থেকে ২.৯ গুণ। গ্রাম ও শহরে ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব একজন নারী একই বয়সের পুরুষের তুলনায় তিন গুণ সময় বেশি কাজ করে, যা জাতীয় আয়ের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয় না । এ গবেষণায় সিপিডি সমগ্র বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের মোট ১৩ হাজার ৬৪০ ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩২০ জন নারী এবং ৫ হাজার ৩২০জন পুরুষ। ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত চলে এই জরিপ।