বাংলাদেশে ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটাতে চেয়েছিল জঙ্গি গোষ্ঠী জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জে এম বি)। সেই জন্যই তারা বর্ধমানে লুকিয়ে থাকা সহযোগী জঙ্গিদের গোপনে বোমা, বিস্ফোরক তৈরির বরাত দিয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল বোমা তৈরির পর বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত ২ অক্টোবর বোমা তৈরির সময় ফেটে গিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়ে সেই পরিকল্পনায় বাধা পরে। প্রাথমিক তদন্তের পর এক বিবৃতিতে একথা জানায় ভারতের তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এন আই এ)।
শুক্রবার ঘটনার তদন্তে এসে বর্ধমানের খাগ্রাগর এবং মুর্শিদাবাদের জঙ্গি দের ঘুরে দেখান এন আই এ-র ডি জি শরদ কুমার। পরে বৈঠকে বসে এই সিদ্ধান্ত নেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর আরো কয়েকজন জে এম বি জঙ্গি পলাতক রয়েছে। তাদের খোঁজ পেতে পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে।
এন আই এ সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমানের খাগ্রাগর শুধুই বোমা তৈরির স্থল নয়। দুটি জেলা জুড়ে যে রকম পরিকল্পনা করে এগোনো হচ্ছিল তাতে অনুমান করা যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশে বড় রকম নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। জানা গেছে, বর্ধমান কান্ডের আগেই বোমার সম্ভার বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর জে এম বি ছাড়াও আরো একটি বাংলাদেশের সংগঠন বর্ধমানের জঙ্গিদের মদদ দিয়েছিল। তারা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকার মাদ্রাসায় বাংলাদেশ থেকে বই সরবরাহের আড়ালে নাশকতার পরিকল্পনায় শরিক হয়েছে। তাদের বিষয়টি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। তারপর ভারত সরকারের তরফ থেকে বিষয়টি জানানো হবে বাংলাদেশ সরকারকে।
এদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ১০০০টি অননুমোদনহীন মাদ্রাসা চিহ্নিত করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়৷ পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের বহু মাদ্রাসার রমরমা নিয়ে চিমি্তত তারা৷ এই ধরনের মাদ্রাসাগুলিতে কোথা থেকে অর্থ সাহায্য আসে সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ রাজশাহির উল্টোদিকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং খুলনার বিপরীতে মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই ধরনের মাদ্রাসার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি৷
