আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার (আইটিইউ) নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে আইটিইউ এর বার্ষিক সম্মেলনে এই ভোটাভুটি হয়। নির্বাচনে ১৬৭ ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ পায় ১১৫ ভোট। এ অঞ্চল থেকে চার বছরের জন্য নির্বাচিত ১৩ কাউন্সিল সদস্যের মধ্যে ভোটের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশ ষষ্ঠ হয়েছিল।
নির্বাচনে বাংলাদেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডকে পেছনে ফেলে নির্বাচিত ১৩টি দেশের মধ্যে ৭ম স্থান অধিকার করেছে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৮টি দেশ। নির্বাচনে মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, লেবানন, ইরান ও বাহরাইন পরাজিত হয়েছে।
সময় সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। ভোটের দিক দিয়ে ১৩টি কাউন্সিলর দেশ হলো— চীন (১৪২), কোরিয়া (১৪০), জাপান (১৩৯), ইন্দোনেশিয়া (১২১), কুয়েত (১২১), সংযুক্ত আরব আমিরাত (১২০), অষ্ট্রেলিয়া (১১৬), বাংলাদেশ (১১৫), ফিলিপাইন (১১৫), সৌদিআরব (১১৫), ভারত (১০৮), থাইল্যান্ড (১০৩) ও পাকিস্তান (১০১)।
আন্তর্জাাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৬৭টি দেশ ভোটে অংশগ্রহণ করে। সম্মেলন উপলক্ষে বুসানে অবস্থানরত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক টেলিফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেল। আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরো একটি সংস্থায় আমরা আমাদের অবস্থান করে নিতে পারলাম।’ আইটিইউর নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ইত্তেফাককে বলেন, সবার সহযোগিতার কারণেই এই নির্বাচনে আমাদের বিজয় হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করেনি এমন তথ্য ঠিক নয়। তিনি নিজেই দীর্ঘদিন এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ প্রচারণা চালিয়ে রবিবার রাতে কোরিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।’
টেলিফোনে সাংবাদিকদের জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের অভিজ্ঞতা ও অর্জন সমূহ আমরা বিশ্বব্যাপী ভাগাভাগি করার মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিময় বিশ্ব গড়তে চাই।’ বাংলাদেশের ভবিষ্যত কর্মপন্থা হিসেবে ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের ৩৫ শতাংশ জনগণকে ব্রডব্যান্ড ও ৭০ শতাংশ জনগণকে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথাও সভায় তুলে ধরেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ ভূখণ্ড ও ৯৯ শতাংশ জনগণ টেলিকম নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত। এ দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১.৬ কোটি। আর ইন্টারনেট ব্যবহার করেন চার কোটির বেশি মানুষ।
