ইলিশশূন্য বঙ্গোপসাগর

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৪, ১১:০৪

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর গভীর বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলো তীরে ফিরেছে। রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় শনিবার এসব ট্রলার কূলে ফিরতে শুরু করেছে। গত ২ দিনে প্রায় সকল ট্রলার মত্স্য অবতরণকেন্দ্রে ফিরেছে। তবে অধিকাংশ ট্রলার ইলিশশূন্য। মাত্র ২৫/৩০টি ট্রলার ৪ টনের মত ইলিশ পেয়েছে। জেলেদের ধারণা, ঘূর্ণিঝড় ‘হুদ হুদ’-এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে। ট্রলার মালিকরা জানান, মাছ ধরা না পড়ায় গত ট্রিপে শতভাগ ট্রলার লোকসানের শিকার হয়েছে। তবে ফিরে আসা ট্রলারগুলো ভাগ্য অন্বষণে  সোম-মঙ্গলবার আবারও গভীর বঙ্গোপসাগরে রওয়ানা হবে।
গতকাল শনিবার ও আজ রবিবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের ফিশারিঘাটে মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ১০ দিন আগে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলো শনিবার উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। রবিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত প্রায় শতভাগ ট্রলার কূলে ফিরলেও অধিকাংশ ট্রলার ছিল ইলিশশূন্য। কোন ট্রলার ২শ’টি, কেউবা ১শ’টি এভাবে ২৫/৩০টি ট্রলার গত ২ দিনে ৪ টনের মত ইলিশ পেয়েছে। বাকী ট্রলারে কোন ইলিশ ধরা পড়েনি। গত ২০দিন ধরে কক্সবাজার শহরের হাট-বাজারে ইলিশের দেখা মিলছে না। তবে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরা না পড়লেও মাইট্টা, কাওয়া, চাপা মাছ, বুম মাইট্টা, চইক্কা ফাইস্যাসহ বিভিন্ন প্রকার মাছ ধরা পড়ছে। তবে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নয়।
ফিশারিঘাট মত্স্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী জানান, শনিবার ও রবিবার প্রায় ২ টন করে ইলিশ এবং আরো ২/৩ টন করে অন্যান্য মাছ এসেছে। সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরা জেলেরা জানান, চলতি মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় হুদ হুদের পর বঙ্গোপসাগরে ইলিশের দেখা মিলছে না। অথচ নিষেধাজ্ঞার আগে গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। শহরের নূনিয়াচড়ার মত্স্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কাইছার জানান, চলতি মাসের শুরুতে নিষেধাজ্ঞা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ সাগরে মাছধরা বন্ধ ছিল। গত ১৬ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে একেকটি ট্রলার ১৬ থেকে ২২ জন মাঝিমাল্লাসহ দেড় থেকে ২ লক্ষাধিক টাকার জ্বালানি ও রসদ নিয়ে গভীরে সাগরে ইলিশ ধরতে যায়। কিন্তু শনি ও রবিবার ফিরে আসা ট্রলারগুলো খুবই কম মাছ পেয়েছে। একেকটি ট্রলার ২০ হাজার টাকারও কম মাছ পায় বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার ফিশারিঘাটে মত্স্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নূরুল ইসলাম নূরু কোম্পানি জানান, তার ট্রলার মাত্র ৪০টি ইলিশ পেয়েছে। গত ২দিনে ঘাটে ফেরা প্রায় শতভাগ ট্রলার এই ট্রিপে লোকসান গুনেছে। প্রত্যেকটি ট্রলারে লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি মনে করেন, দেশি-বিদেশি ডিপ-সী ট্রলারগুলোর নির্বিচারে মাছ নিধনের কারণে সাগর মত্স্যশূন্য হয়ে পড়েছে। জেলেরা ধারণা করেন, চলতি মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘হুদ হুদ’-এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর এখন প্রায় ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে। অন্য প্রজাতির মাছও ধরা পড়ছে কম। ট্রলার মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মত্স্যবিজ্ঞানী ড. ম কবির আহমদ মনে করেন, ‘হুদ হুদ’-এর প্রভাবে ইলিশের দল বঙ্গোপসাগর থেকে মাইগ্রেট বা অন্যত্র গমন করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় মত্স্য ব্যবসায়ীরা জানান, উপকূলবর্তী সমুদ্রে মাছধরার বিহিন্দি ট্রলার ও বড়শি বোটগুলো দিনে গিয়ে দিনেই মাছ ধরে ফিরে আসছে। এসব ট্রলার ও বড়শি বোটে মোটামুটি মাছ পড়ছে। এসব বোটে রূপচান্দা, ছুরি, ফাইস্যা, মাইট্টা, লইট্টা, নাককোরাল, কামিলা বা ইল মাছ, রাঙা কইসহ বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ ধরা পড়ছে।