ফুলক্রিম গুঁড়োদুধ আমদানির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মেসার্স তানভীর ফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদক সূত্র জানায়, ফুলক্রিম গুঁড়োদুধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে।
এদের মধ্যে তানভীর ফুড লিমিটেডসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অনুসন্ধান করছে দুদক। দুদক কর্মককর্তারা জানিয়েছেন, এ সব প্রতিষ্ঠান শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার কৌশল হিসেবে প্রতি টন গুঁড়োদুধের জন্য এক থেকে দেড় হাজার ডলার রফতানিকারক দেশগুলোতে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুসারে এক টন গুঁড়োদুধ আমদানি করতে ডানো ব্র্যান্ড ব্যয় করেছে চার হাজার ৪০০ ডলার। অথচ একই সময় তানভীর ফুড লিমিটেড ফ্রেস গুঁড়োদুধ আমদানি করতে ব্যয় করেছে দুই হাজার ৭০০ ডলার।
অস্ট্রেলিয়ার ইকোভাল ডেইরি ট্রেডের তথ্যানুসারে, ২০১১ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতি টন গুঁড়োদুধের দাম রাখা হয়েছে তিন হাজার ৭৯০ ডলার। অথচ একই সময় তানভীর ফুড লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি টন গুঁড়োদুধের দাম রাখা হয়েছে দুই হাজার ৪৮০ ডলার। এক্ষেত্রে প্রতি টনে আন্ডার ইনভয়েসিং হয়েছে এক হাজার ৩১০ ডলার। অর্থাত্ প্রতি ৫০ টনে ৬৫ হাজার ৫০০ ডলার পাচার হচ্ছে। ওই সময় বিশ্ববাজারে প্রতি টন গুঁড়োদুধের দাম ছিল তিন হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার।
এভাবে বিগত ২০১০ ও ২০১১ সালে সরকার দেড় হাজার কোটি টাকার শুল্ক হারিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
