‘ক্ষমতা ছাড়লেই গণধোলাই’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৪, ২২:৩১
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার যত অপকর্ম করেছে তা দেশের জনগণ জানে। ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে জনগণই তাদের গণধোলাই দেবে। আমাদের কিছু করার দরকার হবে না। সোমবার রাতে বিএনপি গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারকে অনেক সময় দিয়েছি, আর নয়। আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হবে না। জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে গেলে জনগণই বিএনপিকে আন্দোলন নামতে বাধ্য করবে।
বিএনপি নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ কারণেই জনগণের ওপর তাদের দায়বদ্ধতা নেই। মামলা-হামলা ও গুম-খুন করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এখন ভালো মানুষ জেলে, আর সন্ত্রাসী ও ফাঁসির আসামিরা ছাড়া পাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ-ই জঙ্গিদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা। তাদের সময়-ই জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। তারা জঙ্গিবাদ দমনের নামে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদ দেয়। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।
‘বিএনপির পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে’ প্রধানমন্ত্রীর এ কথার জবাবে খালেদা বলেন,  দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা সভা-সমাবেশ করছি। পায়ের নীচে মাটি না থাকলে দাঁড়াতে পারতাম না। আমাদের পায়ের তলায় শক্ত মাটি আছে। আওয়ামী লীগের পায়ের তলায়-ই মাটি নেই।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামীতে যারা আন্দোলনে থাকবেন, তাদেরই ভবিষ্যতে দায়িত্ব দেয়া হবে। আন্দোলনে যারা সামনে থাকবেন তারাই দায়িত্ব পাবেন। গ্রুপিং না করে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। সময় মতো কর্মসূচি দিলে আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবেন।
 নীলফামারীর সমাবেশের দিন কোনো টেলিভিশন যেন সরাসরি সমপ্রচার করতে না পারে সেজন্য একই সময় তিনিও (শেখ হাসিনা) সংবাদ সম্মেলন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘খুনিদের সঙ্গে কিসের সংলাপ’ এর জবাবে খালেদা বলেন, ওনার (শেখ হাসিনার) ডানে-বামে কারা। ওনাদের জিজ্ঞেস করুন। এরশাদ খুনি। ইনুরাও খুনি। এসব বই-পুস্তকে আছে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর প্রমুখ।