‌‘পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব’

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৪, ১০:১১

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তদারকি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। দুর্নীতি এ খাতে কমেছে বলে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। লুটপাট, অপচয়, আত্মসাতের প্রবণতাও অনেক কম। যদিও ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, অপচয়-দুর্নীতি-আত্মসাত্ রোধ করার প্রতি আমাদের কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আইনের প্রতি অনুগত থাকার অভ্যাস সৃষ্টি করা গেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অবশ্যই দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটবে।
গতকাল সোমবার বিকালে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা অডিটরিয়ামে স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্য হলো অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে ব্যবহার করা। জীবন-জীবিকার সাথে শিক্ষার সম্পর্ক থাকতে হয়। প্রায় সকল উন্নয়নশীল দেশের মত আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। যা দেশ, জনগণ ও সমাজকে সফলতা এনে দিয়ে দেশ ও নিজের অঞ্চল সম্পর্কে উঠতি নেতৃত্বের দেখা স্বপ্নকে পূরণ করবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা মানুষের সমস্যা সম্পর্কে জানেন। সরকার জনগণের অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এই জানার সুযোগ যাতে থাকে তার জন্য গণতন্ত্র থাকতে হয়। এক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখা আবশ্যক। আমাদের সমাজে পরিবর্তনের যে ধারা লক্ষণীয় তাতে বর্তমানে যোগ্যতা ও মেধার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও কাম্য বলে তিনি মনে করেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৩০ বছরে দক্ষিণাঞ্চল তথা দেশের মানুষের চোখ খুলে দেয়ার চেষ্টা করেছি। এ সময় আমাদের প্রচেষ্টা ছিল সবাই যাতে উন্নত, সচ্ছল, নির্ভয় জীবন-যাপন করতে পারে তার পরিবেশ তৈরি করা। তিনি বলেন, উন্নয়ন একটি চলমান বিষয়। দীর্ঘ ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশ অগ্রগতির একটি সন্তোষজনক ধাপে উপনীত হয়েছে। এখানে আসতে আমাদের অনেক সময় পার করতে হয়েছে। দেশের সম্পদ কম বলে এই দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতায় এখনও হতাশা আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।
মন্ত্রী আরো বলেন, জীবনমানের উন্নয়নে তাগিদ অনুভব করতে হয়। আমরা কাজের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারি না। বরাদ্দকৃত অর্থের ৮০ শতাংশ সঠিকভাবে ব্যয় হলে স্কুল-কলেজসহ সকল ক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জিত হতো। আমাদের প্রয়োজনীয় অর্থ সম্পদ নেই। তারপরও যোগ্যতা-দক্ষতার অভাবে বছর শেষে অর্থ অব্যবহূত থাকে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ঘরে-ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার এ সময়ের মধ্যে ঘর-বাড়ির সংখ্যাও আনুপাতিক হারে বেড়ে যাবে, তাই তার সাথে সঙ্গতি রেখেই এ লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। সকল কাজে ঐক্য বজায় রেখেই আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুবুর রশীদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মকবুল হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু, ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান, ভাণ্ডারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, টুঙ্গীপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক, প্রাথমিক শিক্ষক নেতা এবিএম নূরুল ইসলাম, আবুল কালাম খান, ওমর ফারুক, আবুবকর সিদ্দিক, এবিএম রফিকুল ইসলাম ও রেজাউল আহসান।
এরপর মন্ত্রী ভাণ্ডারিয়ার কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ, মহিলাদের মাঝে অনুদানের চেক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেন। এর আগে দুপুরে মন্ত্রী ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুত্ সাব স্টেশন ও ২১ শহর বিদ্যুত্ বিতরণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রীকে ওয়েস্টার্ন জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ এ প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন। এরপর মন্ত্রী উপজেলার মদন মোহন জিউ মন্দির পরিদর্শনে যান। সেখানে কিরণ চন্দ্র বসু, উত্তম কুমার দাস, শংকর জিত্ সমাদ্দার, সুকুমার দাস, সুশীল কর্মকার প্রমুখ হিন্দু নেতা তাকে স্বাগত জানান।
সন্ধ্যায় দলের স্থানীয় কার্যালয়ে উপজেলা জেপি’র নতুন আহবায়ক কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, রাজনীতির উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়া। এ জন্য দু’টি পথ রয়েছে। একটি হলো গণতান্ত্রিক উপায়, আরেকটি উগ্রপন্থা। অর্থাত্ মারামারি কাটাকাটি করে ক্ষমতায় যাওয়া। আমরা প্রথমটির পক্ষে। তিনি বলেন, এরশাদ সরকার নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন। তার দল ভেঙ্গে ৮/১০টি দল হয়েছে। আর আমরা দল করে ১৮ বছর ক্ষমতায় রয়েছি। আমাদের নিয়ত ঠিক ছিল। আমরা গণতন্ত্র ব্যবস্থার পক্ষে ছিলাম বলে এরশাদকে জেল থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি। বিএনপি একটি বড় দল হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলন সফল করতে পারেনি। জাতীয় পার্টি ও বিএনপির মধ্যেও একটি  ক্ষেত্রে আদর্শের মিল আছে। বিএনপিও বার বার ক্ষমতায় যেতে চায়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বার বার সামরিক শাসন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত করেছে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বহাল রেখে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমে সহায়তা করছি। জাতীয় পার্টি (জেপি) মানেই উন্নয়ন, কাজ করাই আমাদের রাজনীতি, তাই আমাদের সকলেরই কাজ করতে হবে।
জেপি চেয়ারম্যান বলেন, বড় ও ক্ষমতাসীন দলে সবাই যায়। অনেকে অপকর্ম করে বড় দলে আশ্রয় নেয়। এই অপকর্মের কারণে রাজনীতির প্রতি মানুষ ও প্রশাসন বিমুখ হয়। এই সুযোগে অপশক্তি ক্ষমতায় আসে। ফলে ভূমি দখল, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লুটপাট করলেও এর প্রতিবাদ করতে দেশের মানুষ সাহস পায় না। আমার দলের কোন কর্মী দীর্ঘ ৩০ বছরেও কোন কাজ চায়নি। দলের আদর্শের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। আর আল্লাহর রহমত না হলে জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়া যায় না।
দলের উপজেলা যুগ্ম-আহবায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে  সভায়  অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, জেপির উপজেলা সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু  প্রমুখ।
এসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন মহারাজ, জেপি নেতা মো.আলী আহম্মেদ সেপাই, মো.শফিকুল আলম খোকন সিকদার, যুব সংহতি নেতা মো.শহিদুজ্জামান রাজু মল্লিক, মো. মনির সরদার গোলাম কবির নান্টু, ছাত্র সমাজের উপদেষ্টা মামুনুর রশিদ সরদার, আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম শিমুল আকন, যুগ্ম-আহ্বায়ক মামুন ফরাজীসহ স্থানীয় জেপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।