‘মুনাফালোভীদের হাতে চলে যাচ্ছে রাজনীতি’

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৪, ০০:৪২

নির্বাচনী ব্যয় বর্তমানে নির্ধারিত ২৫ লাখ টাকা থেকে আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন রাজনীতিকরা। তারা বলেছেন, নির্বাচন একটি উত্সব। সেই সঙ্গে ব্যয়বহুলও। প্রার্থী চাইলেও কম খরচ করতে পারেন না। পাশাপাশি ‘সরকারি অনুদানেই নির্বাচনী ব্যয়’ পরিচালিত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান। ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনায়ন’ শীর্ষক এই গোলটেবিলের আয়োজন করে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। বৈঠকে অন্য আলোচকরা বলেন, এখন শুধু রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করেন না। মুনাফালোভীদের হাতে রাজনীতি চলে যাচ্ছে। রাজনীতি এবং রাজনৈতিক অবস্থানই দ্রুত মুনাফা লাভের অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
ইডব্লিউজি পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদের পরিচালনায় গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, নির্বাচন এখন ব্যয়বহুল। নির্দিষ্ট অর্থে নির্বাচন করা কঠিন। আমাদেরকে যে নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকা বেধে দেয়া হয়েছে, তা পরিবর্তন করা দরকার। তিনি বলেন, মধ্যবিত্তের রাজনীতি করার সুযোগ আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের এখন রাজনীতির সঙ্গে ব্যবসাও করতে হবে। বৈধভাবে আয় করতে হবে। এরপর জনগণকে সাহায্য করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া সরকারি অনুদানে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তাই ভালো উদ্যোগের ক্ষেত্রে দেশের সবার ঐকমত্য প্রয়োজন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যতদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা যাবে না, ততদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে না। এখন শুধু রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করেন না। মুনাফালোভীদের হাতে রাজনীতি চলে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীনের পর দেশে মাত্র ১৭.৫ শতাংশ ব্যবসায়ী এমপি ছিলেন। এখন সেটি ৫৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। রাজনৈতিক অবস্থানই দ্রুত মুনাফা লাভের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক বলেন, প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ করে দিতে চাইলে অবশ্যই সেটা বাস্তবসম্মত হতে হবে। আমলারা এটা ঠিক করে দিলে হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে পর্যাপ্ত জনবল নেই, এটি শক্তিশালীও নয়। সে কারণে তারা যথাযথভাবে নির্বাচনী ব্যয় পর্যবেক্ষণ করতে পারেন না।
জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মুহম্মদ কাদের বলেন, নির্বাচনী খরচ হিসাব করে করা যায় না। কোনো রাজনৈতিক দলও নির্দিষ্ট খরচ দিয়ে দল পরিচালনা করতে পারে না। তবে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা থাকা আবশ্যক। আমরা বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে গণতন্ত্রের কথা বলে থাকি। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে সেটা ভুলে যাই। এজন্য জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও প্রয়োগিক করার পরামর্শ দেন তিনি।

এছাড়া জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান, ডেমোক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান, ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক আব্দুল আলীম প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।