দেশের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নত করতে না পারলে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে আসা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়নে এতদিন আমরা শুধু নীতি-কৌশল ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছি। কিন্তু এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানে ততটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত সাহায্য প্রত্যাশিত পরিমাণে আসেনি, যা দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এলডিসিভুক্ত ১২ দেশের তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতিসংঘ ইকোনমিক এন্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া এন্ড দ্য প্যাসিফিক (ইউএনএসকাপ) এবং জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক এন্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স (ইউএনডিএসএ) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ইআরডি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন বক্তব্য দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। এত মানুষ দরিদ্র থাকলে নতুন বাজার তৈরি হবে না, দক্ষ জনগোষ্ঠীও সৃষ্টি হবে না। তাই মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে আমাদের দারিদ্র্যতা কমাতে হবে। এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া একটি দেশের এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। এজন্য আমরা নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিদের সহায়তাও কামনা করছি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে ভিডিও বক্তব্যে ইউএনএসকাপের নির্বাহী সচিব সামসাদ আক্তার বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে একদিকে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, অন্যদিকে সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে দক্ষতার অভাব রয়েছে। অনেক অনুত্পাদনশীল খাতে সম্পদ ব্যবহার করা হয়, যা কমাতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে ইআরডি সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন বলেন, তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে উন্নয়ন বিষয়ক সাতটি কর্ম অধিবেশন হবে। দেশ ও বিদেশের বিশেষজ্ঞরা এতে কয়েকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। বাংলাদেশ ছাড়াও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, কিরিবাতি, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, পূর্ব তিমুর, টুভালু ও ভানুয়াতুর প্রতিনিধিরা।
