কমনওয়েল্থ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন- সিপিএ চেয়ারপার্সন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জীবন মানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সিপিএভূক্ত দেশগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সিপিএ কমনওয়েল্থভূক্ত দেশগুলোর পার্লামেন্ট ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বুধবার ভারতের পাঞ্জাবের চন্ডিগড়ে কমনওয়েল্থ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন- সিপিএ ভারতের পাঞ্জাব রাজ্য পার্লামেন্ট এবং গ্রিন উইচ বিশ্ববিদ্যালয় এর যৌথ আয়োজনে “দি রোল অব পার্লামেন্টারি এগ্রিকালচারাল কমিটি শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় এ কথা বলেন। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তাকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি ভারতের লোকসভার স্পিকারসহ বিভিন্ন বিধান সভার স্পিকার ও সংসদ-সদস্যগণকে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কমনওয়েল্থ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন- সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হওয়ার পর সিপিএ আয়োজিত কোন অনুষ্ঠানে এটাই তার প্রথম অংশগ্রহণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের কৃষি খাত সম্পর্কে স্পিকার বলেন, কৃষি বাংলাদেশের সর্বাধিক অগ্রাধিকার সম্পন্ন খাত। কৃষি ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে কৃষি জমিতে পানি সেচ নিশ্চিত করতে এ খাতে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের কৃষিতে সর্বাধিক ভর্তুকি প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের ব্যাংকিং লেনদেন সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে কৃষকদেরকে মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
সিপিএ’র কার্যাবলী প্রসঙ্গে স্পিকার ও সিপিএ চেয়ারপার্সন বলেন, সিপিএ’র কার্যাবলীতে কৃষিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সিপিএ মনে করে, শুধুমাত্র ফসল উৎপাদনই কৃষি ক্ষেত্রের একমাত্র কাজ নয়, মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন, ক্ষুধা দূরীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কৃষি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংসদ-সদস্যদের কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরণের কার্যাবলীকে এগিয়ে নিতে পালামেন্টারি স্টাফ সাপোর্ট বৃদ্ধি করারও প্রয়োজন রয়েছে।
সিপিএ চেয়ারপার্সন বলেন, কৃষি বিষয়ক সংসদীয় কমিটিগুলো পুষ্টির উন্নয়ন, কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষি জমি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, লবনাক্ততা দূরীকরণ, কৃষিতে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বৃ্িদ্ধতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ-সদস্যদের ভূমিকা আরো বৃদ্ধি করতে হবে।
স্পিকার বলেন, ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, তাঞ্জানিয়ার ডেপুটি স্পিকার, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল, উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবির সিং বাদল ও পাঞ্জাবের বিরোধী দলীয় নেতা সুনীল চাথার বক্তব্য রাখেন। খবর বাসস।
