রায় কার্যকর করতে ত্বরিত পদক্ষেপ নেবে সরকার :আইনমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৪, ০০:০২

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। গতকাল বুধবার এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারও সন্তুষ্ট। এ রায় বড় প্রাপ্তি। রায় আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং তা কার্যকর করতে ত্বরিত পদক্ষেপ নেবে সরকার। আইনমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা যে চেষ্টা করবো তা হলো- আপিলের তাড়াতাড়ি শুনানি করে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখে তা কার্যকর করা।

এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বলে আসামি পক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ নাকচ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নই ওঠে না। তারা আইন অনুযায়ী সাজা দিয়েছেন।
এ রায় ঐতিহাসিক :
বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া
এ রায়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন বিশিষ্টজনরা। গতকাল বুধবার দুপুরে এ রায় ঘোষণার পর পৃথক পৃথক প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেছেন, জাতির কাছে এ রায় ছিলো কাঙ্ক্ষিত। এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, শহীদ রুমি, বদি, জুয়েলকে ধরে যে ক্যাম্পে নেয়া হয়েছিল সেখানে নিজামী প্রায়ই যেত। তখন নিজামী পাকিস্তানি ক্যাপ্টেনকে বলেছিল, রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আগেই ওদের মেরে ফেলতে হবে। তাদের হত্যার পরে তাদের পরিবারও কাঁদতে কাঁদতে মারা যায়। আমরা বন্ধুরাও ঠিক থাকতে পারিনি ওই সময়। এই বিচারে একটি ঐতিহাসিক রায় হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, এ রায়ের জন্য জাতি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলো।
মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার গেরিলা যোদ্ধা বিচ্ছু জালাল বলেন, মৃত্যুদণ্ডটা নিজামীর প্রাপ্য ছিল। একাত্তরে আমরা ঢাকার গেরিলারা এবং সাধারণ মানুষ এই নিজামী-মুজাহিদদের আতঙ্কে ছিলাম। এ আতঙ্ক এবং তার অপরাধের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে তাকে আমরা ওই সময়ে কয়েক বার হত্যার চেষ্টা করেছি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইশমত কাদির গামা বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে- স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র অতীতে দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ছিল। বর্তমানেও তারা বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকাল থেকেই মাজার গেটের রাস্তায় অবস্থান নেয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা দফায় দফায় নিজামীর ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান দেয়। নিজামীর ফাঁসির রায় শুনে তারা উল্লাস প্রকাশ করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সন্তুষ্ট
মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। রায় ঘোষণার পর গতকাল এক প্রতিক্রিয়ায় প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এতে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।

প্রসিকিউটর হায়দার আলী বলেন, আদালত তাঁর রায়ে নিজামীকে কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যাকারী বলে উল্লেখ করেছেন। আদালত বলেছেন, নিজামী ইসলাম ধর্মের একজন পণ্ডিত ব্যক্তি; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা করে গণহত্যা, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করতে অন্যদের উস্কানি, নিজেও করেছেন।