আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধী নিজামীর রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দিয়ে আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে জামায়াত। আর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নিশ্চুপ বা যতই ঘোমটা দিয়ে থাকুন না কেন তিনি যে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি তা আজ জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে কিংবা আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জনগণের জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করা হলে সরকার অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপশক্তির কালো হাত ভেঙ্গে দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বসির মিলনায়তনে সাম্যবাদী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কিছুদিন আগে শুনেছি জামায়াতের সঙ্গে সরকারের আঁতাত হয়েছে। এজন্য বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের কাছ থেকেও প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছি। এখন নিজামীর রায়ে প্রমাণ সরকারের সঙ্গে জামায়াতের কোনো আঁতাত বা সমঝোতা হয়নি। এই রায় সরকার বা আওয়ামী লীগ দেয়নি, আদালত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, যারা এই রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দিয়েছে, তারা আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই আদালত অবমাননার দায়ে এদের বিচার হওয়া উচিত। জামায়াত-শিবির কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলে তারা সুপ্রিমকোর্টে যেতো। তা না করে তারা হরতাল দিয়েছে। আর রায় ঘোষণার পর থেকে খালেদা জিয়ার নীরব থাকার মানে তিনিও হরতাল সমর্থন করেছেন। তাই তিনিও জামায়াত-শিবিরের মতো সমান অপরাধী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে না হয় বিপক্ষে থাকতে হবে। রাজনীতিতে হ্যাঁ অথবা না বলতে হবে। মধ্যমপন্থা বলে রাজনীতিতে কোনো কিছু নেই।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এখন যেমন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি ভুয়া সংগঠনও বের হচ্ছে। আর ভুয়া সংগঠন নিয়ে বিএনপি সামনের দিকে এগুচ্ছে, হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। কোনো হুমকি-ধামকিতে কাজ হবে না। ২০১৯ সালের একদিন আগেও এদেশে নির্বাচন দেয়া হবে না। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে বিজয়ী হন, তখন খালেদা জিয়ার হাসি মুখ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু নরেন্দ মোদি যখন বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তখন খালেদা জিয়ার মুখে সেই হাসি নেই।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, নিজামীর ফাঁসির রায়ে দেশের সব মহল সন্তুষ্ট হলেও একটি মাত্র দল বিএনপি হতে পারেনি। ঢাকাসহ সারাদেশে কোথাও কোনো হরতাল দেখা যায়নি। দেশের মানুষ জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠী বাংলাদেশে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। জঙ্গীবাদের ব্যাপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়া জামায়াতের হরতালের বিরোধিতা না করে নিজেকে ‘নব্য রাজাকার’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তাই নব্য রাজাকারদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। ফয়সালা হবে রাজনীতির মাঠে। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শেষ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। যদি নব্য রাজাকারের তালিকা থেকে নিজের নাম কাটাতে চান, তাহলে যুদ্ধাপরাধ ও জঙ্গিবাদ ছাড়–ন। নতুবা জাহান্নামে যান।
সভাপতির বক্তব্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া বলেন, ১৪ দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসকে শিকদার, সাম্যবাদী দলের পলিটব্যুরোর সদস্য ধীরেন সিংহ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রশীদ খান, ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় নেতা ড. অসিত বরণ রায় প্রমুখ।
