পদ্মা সেতু নির্মাণে মাটি পরীক্ষা শুরু কাল

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৪, ০৯:৪০

হরতালসহ নানা কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণে মাটির পরীক্ষার কাজ গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু করা সম্ভব হয়নি। সেতু ভবনের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও সেতু কর্তৃপক্ষ বুধবার বৈঠক করে আগামীকাল শনিবার মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পদ্মা সেতুর ২৬৬টি পিলারের মধ্যে ৬৬টি পিলারের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচটি পিলারের পয়েন্ট নিয়ে সমস্যা হওয়ায় কাজে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে ২-১ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে পদ্মা সেতু নির্মাণে নানা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এসে পৌঁছেছে মাওয়ায়।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, সেতুর ২৬৬টি পিলারের মধ্যে মাওয়া প্রান্তের ৬৬টি পিলারের পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৫টি পিলারের সম্ভাব্য স্থানে দোকানঘর থাকায় এখানে মাটি পরীক্ষার কাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মা সেতুর জন্য অধিগ্রহণকৃত এসব জমির মালিককে পিলারের স্থল হতে দোকানঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, চীনে পদ্মা সেতুর পাইল (বিশালাকৃতির খুঁটি) নির্মাণের কাজ চলছে। ৯০ মিটার করে ১০টি পাইল নির্মিত হচ্ছে চীনের নানটোং-এর স্টিলকাটার ফেব্রিকেট ওয়ার্কশপে। এগুলো পরীক্ষামূলক হিসাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাইলগুলোর ধারণ ক্ষমতা নিরূপণে এগুলো পিলারস্থলে বসিয়ে পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় চাহিদামত আরো পাইল নির্মাণ করা হবে। খুব শিগগির এসব পাইল দেশে নিয়ে আসা হবে।
এদিকে প্রি ফ্রেকেটেট স্থাপনাবাহী ৪র্থ শিপমেন্টের জাহাজ গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর এখন কাস্টমসের কার্যক্রম চলছে। শিগগির মালামাল মাওয়া নিয়ে আসা হবে।
পদ্মা সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজের নিয়োগকৃত পদ্মা সেতুর মালামালের লজিস্টিক ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিংয়ের এজেন্ট এসআই চৌধুরী এন্ড কোম্পানী লিমিটেডের (সিকো গ্রুপ) নির্বাহী পরিচালক আলী আহমেদ জানান, বড় আকারের দু’টি ফ্লোটিং ক্রেন, দু’টি টাগ বোট, একটি অ্যাংকর বোট এবং তিনটি বিশাল আকারের কার্টিং ড্রেজার মাওয়ায় পৌঁছার আগে এসব ভারী যন্ত্রপাতির সাথে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং পাইপসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিও মাওয়ায় পৌঁছেছে। এছাড়া মাটি পরীক্ষার ছোট আকারের চার সেট গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি এবং কেমিক্যাল বিমানযোগে চীন থেকে ঢাকা শাহজালাল বিমান বন্দর হয়ে মাওয়ায় এসেছে।