স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হতে বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে বাণিজ্য সুবিধা ও সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে স্বল্পোন্নত ১২টি দেশ। বৈদেশিক সহযোগিতার চেয়ে নিজস্ব সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়েছে তারা। সেই সাথে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের প্রতিও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসতে আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং অর্থ সংগ্রহের উপায় খুঁজতে গত মঙ্গলবার ঢাকায় শুরু হওয়া তিন দিনের আঞ্চলিক বৈঠক গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বৈঠকের বিভিন্ন দিক সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন। তিনি বলেন, এশিয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি স্বল্পন্নোত দেশ এ তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে আসতে চায়। তিনি জানান, এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসলেও খুব শিঘ্রই সুযোগ-সুবিধা উঠে যাবে না। তাছাড়া বাংলাদেশ চায় ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হতে। সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ইতিমধ্যে আমাদের মাথাপিছু আয় ১১৯০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মানব উন্নয়ন সূচকেও আমরা এগিয়েছি। তবে এটা ঠিক যে, আমাদের বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত হারে হচ্ছে না। মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে প্রতিবছর বাড়তি ৬ বিলিয়ন ডলার হারে বিনিয়োগ করতে হবে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, গত অর্থ বছরে বৈদেশিক অর্থ ছাড় ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার। যা এযাবত্ কালের সর্বোচ্চ। পাইপ লাইনে বিশাল একটা অংশ আছে যা বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ ব্যবহার করা গেলে আগামী তিন বছরে অবকাঠামো আরো উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশসহ আফগানিস্তান, ভুটান, কম্বোডিয়া, কিরিবাতি, লাওস, মিয়ানমার, নেপাল, সলোমান দ্বীপুঞ্জ, পূর্ব তিমুর, তুভালু ও ভানুয়াতুর ৫৯ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে তিন বছর সংশ্লিষ্ট দেশের গড় মাথাপিছু আয় ১১৯০ ডলার বা তার চেয়ে উপরে হতে হবে। দ্বিতীয়ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ মানব সম্পদ উন্নয়নের সূচকের শর্ত পূরণ করতে হবে। আর তৃতীয়ত কৃষি উত্পাদন, আমদানি রপ্তানি, বাণিজ্য, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা থেকে উত্তরণে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) প্রতি তিন বছর পর এসব মানদণ্ড পর্যালোচনা করে। যেসব দেশ শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়, তাদেরকে এলডিসির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। সর্বশেষ হিসাবে বর্তমানে বিশ্বে ৪৮টি দেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিক (ইউএনএসকাপ) এবং জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স (ইউএনডিইএসএ) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ইআরডি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন জানান, সভায় বিভিন্ন সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়। এগুলোর মধ্যে অর্থায়নের চাহিদা, অর্থায়নের উত্স, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, রাষ্ট্রীয় সংকট এবং সম্ভাবনার আলোকে সামষ্টিক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উত্সাহিত করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা বিশেষ করে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা উল্লেখযোগ্য।
