মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপরে তাকে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে করে কড়া পুলিশ পাহারায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী রবিবার তাকে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিন তার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মামলার রায় রবিবার ঘোষণার দিন ধার্য করেন বিচারপতি মজিবর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। এটি হবে যুদ্ধাপরাধ মামলায় একাদশতম রায়। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুইটি বেঞ্চে এর আগে ১০টি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। গত ৪ মে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায় অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, গুম, আটকসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রাম আলবদর বাহিনীর কমান্ডার কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর চার্জ গঠন করেন। একাত্তরে মীর কাসেম আলী ইসলামী ছাত্র সংঘের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ছিলেন। তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সেখানে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটে। কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগের মধ্যে চট্টগ্রামের আসাদনগর ও পাঁচলাইশ এলাকায় হত্যা এবং চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ অন্যতম।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর কাসেম আলীর মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ২-এ স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত কাসেম আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৪ জন সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে আসামির পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তিনজন।
২০১৩ সালের ১৭ জুন কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিন বিকেলে মতিঝিলে নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
