আলোচনা সভায় বক্তারা

গার্মেন্টসে নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৪, ১৭:৫৩
 
 
 
 
বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরিপোশাক শিল্প প্রায় ৩ যুগ অতিক্রম করে জাতীয় অর্থনীতির গতি সঞ্চালনের অন্যতম নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। শুরুতে মোট রপ্তানি আয়ের মাত্র ০.৪ শতাংশ অর্জন করলেও এই ৩ যুগে তা দাঁড়িয়েছে মোট রপ্তানি আয়ের ৭৯.৬ শতাংশ। ২০১২-২০১৩ অর্থবছর যার পরিমাণ ২১.৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বিজিএমইএর নিবন্ধন অনুযায়ী এই শিল্প খাতে ৫ হাজার ৪ শতাধিক কারখানা রয়েছে। যেখানে ৪৫ লাখের অধিক শ্রমিক কাজ করে, যার ৮০ শতাংশ নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি চরমভাবে উপেক্ষিত। সংশ্লিষ্টজনেরা মনে করেন, কার্যকর ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক নিরাপত্তা বিষটি এমনভাবে উপেক্ষিত হলে এই শিল্প টিকে থাকতে পারবে না। তাই গার্মেন্টস শিল্পের নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য তারা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
তারা মনে করেন— শক্তিশালী মালিকপক্ষ সরকারকে প্রভাবিত করে শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি এড়িয়ে যায়। তাই এমনি-এমনি তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা হবে না। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত ‘গার্মেন্টস শিল্প: নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন তারা। নাগরিক উদ্যোগ, বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরাম, গার্মেন্টস শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ সম্মিলিতভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়েক সেন, আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, বিলসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী লাভলী ইয়াসমিন ও শামীমা আক্তার শিরীন প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন বিষয়টি একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা যথাযথ ক্ষতিপূরণ পান। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, শিশুরা শিক্ষা থেকে ঝরে না পরে, পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তিনি জানান— একটি পরিসংখ্যানে প্রকাশ করা হয়েছে ১৯৯০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে গার্মেন্টস শিল্পে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২১২৯ জন। তাজরিন ও রানাপ্লাজা দুর্ঘনা শুধুই দুর্ঘটনা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. বিনায়েক সেন বলেন, এখনই পূর্ণ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও এ ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে, তার এক অংশ সরকার জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখতে পারে। এবং অপর অংশ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা আমদানিকারক দেশ বহন করতে পারে। তিনি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরো বলেন— এ শিল্প ও এর কর্মপরিবেশ নিয়ে আরো গবেষণার অবকাশ আছে। তিনি গার্মেন্টস শিল্পে বিক্ষিপ্তভাবে কাজ না করে কেন্দ্রীয়ভাবে জরিপের কর্মসূচি নেয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য আইনি লড়াই করতে হবে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মালিকরা প্রভাবশালী হবার কারণে শ্রমিকরা সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কথা বলা হলেও তা মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য তৈরি করা। সুতরাং, এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।