ঐতিহাসিক নিদর্শনের টেরাকোটার রেপ্লিকা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৪, ১০:২২

দেশের চারটি ঐতিহাসিক নিদর্শন মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, ষাটগমু্বজ মসজিদ ও কান্তজীর মন্দিরের টেরাকোটার রেপ্লিকা তৈরি হচ্ছে বগুড়ায়। বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা পালপাড়ায় ওই চার এলাকার ৮ জন মৃিশল্পীকে এনে হাতে-কলমে রেপ্লিকা তৈরি শেখানো হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজার রহমান ও তার সংগঠন ঐতিহ্য অন্বেষণ এই প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।
শুক্রবার দুপুরে বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের পালপাড়ায় রেপ্লিকা তৈরির প্রশিক্ষণ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের অবহিত করেন অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজার রহমান। তিনি জানান, আমাদের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ নিদর্শন থাকলেও সেসব সর্বসাধারণের নাগালে নেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশই তাদের ঐতিহাসিক স্থাপনার রেপ্লিকা তৈরি করে বাজারজাত করে। এর মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিহাস সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মমত্ববোধ বৃদ্ধি পায়। আর এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ওই চারটি ঐতিহাসিক এলাকার পাশের ৮ জন মৃিশল্পীকে বগুড়ায় এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এই উদ্যোগে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, মহাস্থান এলাকার জন্য সুভাস চন্দ্র পাল ও মিলন রানী, পাহাড়পুর এলাকার জন্য মিন্টু কুমার মালাকার ও তার ভাই রন্টু কুমার মালাকার, ষাটগুমু্বজ এলাকার শংকর কুমার পাল ও তার স্ত্রী শিবা রানী পাল এবং কান্তজীর মন্দির এলাকার জন্য রঞ্জন চন্দ্র রায় ও উত্সব চন্দ্র রায়কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব উদ্দিন সৌরভ এবং সিরাজগঞ্জের প্রসিদ্ধ মৃিশল্পী মদন পাল প্রশিক্ষক হিসেবে তাদের হাতে-কলমে রেপ্লিকা তৈরি শেখাচ্ছেন।
এইসব নিদর্শন তৈরির প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নিজেরাই তা তৈরি করে বিক্রি করতে পারবে। ইচ্ছা করলে সেসব তারা কোন দোকানেও বিক্রি করতে পারে। এতে যেমন তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, তেমনি বিলুপ্তপ্রায় মৃিশল্প আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। তাদের সাবলম্বী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণার বিস্তার ঘটানোই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে জানান অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজার রহমান ।
তিনি জানান, মাটি দিয়েই সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি করা হবে রেপ্লিকা । হুবহু যে কোন টেরাকোটার রেপ্লিকা তৈরির জন্য সহজ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। রেপ্লিকা তৈরির পর আগুনে পুড়িয়ে এসব বাজারজাত করা হলে পালরা যেমন লাভবান হবে , তেমনি এসব টেরাকোটা  শোভাপাবে অন্দর মহলে।  প্রশিক্ষণ নিতে আসা ষাটগুমু্বজ এলাকার শংকর কুমার পাল ও তার স্ত্রী শিবা রানী পাল এর সাথে কথা বললে তারা জানান,  মাটির তৈরি বাসনপত্রের কদর কমতে শুরু করেছে। ফলে এখন কাজ নেই । অনেকেই পেশা বদল করেছেন। এখন কদর রয়েছে নতুন নতুন পণ্যের। আর এই টেরাকোটার রেপ্লিকা তৈরি তেমন কঠিন নয়। কিন্তু এধরনের কিছু করতে পারলে তার চাহিদা প্রচুর। তাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এলাকায় গিয়ে এসব তৈরি করে বাজারজাত করবেন। মানুষের ঘরে ঘরে শোভাপাবে তাদের এই কর্ম। এমনটি বলতেই- গর্বের হাসি হাসলেন দু’জনই ।