মাওয়ায় পদ্মা সেতুর মাটি পরীক্ষা শুরু

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৪, ২১:৪০
 
 
শনিবার পদ্মা সেতুর মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। সেতুর মোট ২শ’৬৬টি পিলারের মধ্যে ৬৬টি পিলারের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া ফেরিঘাটের কাছে দুই নম্বর পিলারে এই পরীক্ষা চলছে। পরবর্তী ২/১ দিনের মধ্যে পদ্মা নদীর ওপর তিন নম্বর পিলারের মাটি পরীক্ষা চলবে। এক একটি পয়েন্টে মাটি পরীক্ষায় সময় লাগবে প্রায় সাত দিন। এর আগে তিনটি শিপমেন্টের মালামাল মাওয়ায় পৌছেছে। ৪র্থ শিপমেন্টের জাহাজ শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছেছে। এখন মাওয়ায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। সব কিছু মিলিয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে মাওয়ায় চলছে বিশাল কর্মযঞ্জ।
শনিবার মাওয়া ঘুরে দেখা যায়, মাওয়া ফেরি ঘাটের কাছে পদ্মা সেতুর দুই নম্বর পিলারে সেতুর প্রথম মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সহায়তায় মাটি পরীক্ষা করছে চাইনিজ প্রকৌশলীগণ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রীজের প্রকৌশলীরা মাটি পরীক্ষার কাজ করলেও এ কাজের তদারিক করছেন নেপালের সংশ্লিষ্ট বিশেষঞ্জ ড. হেমনাথসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীগণ। প্রায় ১শ’ মিটার গভীরের মাটি তুলে এনে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হওয়ায় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের সর্ব বৃহত্ এই সেতু নির্মাণের অগ্রগতিতে খুশি এলাকাবাসী।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মাটির পরীক্ষার কাজ শুরু করার কথা থাকলেও নানান কারণে তা সম্ভব হয়নি। সেতুর মোট ২শ’ ৬৬টি পিলারের মধ্যে মাওয়া প্রান্তের ৬৬টি পিলারের পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৫টি পিলারের স্থলে দোকানঘর থাকায় এখানে মাটি পরীক্ষার কাজে একটু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মা সেতুর জন্য অধিগ্রহনকৃত এসব জমির মালিককে পিলারের স্থল হলে দোকানঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হবে। তখন আর পিলারের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজে কোন প্রকার অন্তরায় থাকবেনা। মাটি পরিক্ষার এ কাজের সাথে সাথে অন্যান্য পিলারের পয়েন্ট নির্ধারণের কাজও একই সাথে চলবে। এই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, গোটা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পদ্মায় ফেরি পারপারের দুর্ভোগও লাঘব হবে।
এদিকে ৯০ মিটার করে ১০টি পাইল নির্মিত হচ্ছে চীনের নানটোং-এর স্টীল কাটার ফেব্রিকেট ওয়ার্কশপে। এগুলো টেস্টিং পাইল হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাইলগুলো সঠিক ধারণ ক্ষমতা নিতে পারে কি-না এগুলো পিলারস্থলে পাইলিং করে বসিয়ে পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় চাহিদা মত আরো পাইল নির্মাণ করা হবে। খুব শিঘ্রই এসব পাইল দেশে নিয়ে আসা হবে।এদিকে পি-ফ্রেকেটেট স্থাপনাবাহী ৪র্থ শিপমেন্টের জাহাজ গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছার পর এখন কাস্টমসের কার্যক্রম চলছে। শিঘ্রই মালামাল মাওয়া নিয়ে আসা হবে। প্রি ফ্রেকেটেট স্থাপনাগুলো চীনেই তৈরী করা হয়েছে। এখন এগুলো এনে সেতুস্থলের দু’পাড়ে স্থাপন করা হবে। মূল সেতুর কাজ দ্রুত শুরু করার ক্ষেত্রে এসব স্থাপনা জরুরি। চতুর্থ শিপমেন্টের মালামাল গত ১৩ অক্টোবর চীনের সাংহাই বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।
চীন থেকে আসা পাইলিং ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার, ট্যকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মাটি পরীক্ষার প্রকৌশলীসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রকৌশলী দেশে পৌছার পর ইতোমধ্যেই সেতুস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা প্রতিদিনই সেতুর বিভিন্ন দিক নিয়ে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছেন।
বড় আকারের দু’টি ফ্লোটিং ক্রেন, দু’টি টাক বোট, একটি এ্যাংকর বোট এবং তিনটি বিশাল আকারের কার্টিং ড্রেজার মাওয়ায় পৌছার আগে এসব ভাড়ি যন্ত্রপাতির সাথে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং পাইপসহ আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতিও মাওয়ায় পৌঁছেছে। এছাড়া মাটি পরীক্ষার ছোট আকারের চার সেট গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি এবং ক্যামিক্যাল বিমান যোগে চীন থেকে ঢাকা শাহজালাল বিমান বন্দর হয়ে মাওয়ায় এসেছে। এতে মূল সেতুর কাজ শুরু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। পদ্মায় সেতুর কার্যক্রম নিয়ে দেশী-বিদেশী প্রকৌশলীদের কর্মযজ্ঞে মাওয়ায় এক বিশেষ পরিবেশ বিরাজ করছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের দ্রুত অগ্রগতি দেখে দু’পাড়ের মানুষের মধ্যে এখন আনন্দ দোলা খাচ্ছে।