জাতীয় গ্রিডে কারিগরি সমস্যার কারণে শনিবার বেলা ১১টা ২৭ মিনিট থেকে সারা দেশে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রমও চালাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেক প্রতিষ্ঠান দুপুরের পর থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়। জেনেরেটরের মাধ্যমে কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জেনেরেটরের মাধ্যমে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা বেশ ব্যয়বহুল। সে কারণে দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে জেনেরেটরের কার্যক্রমও গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানগুলো। সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ না থাকায় অফিসের স্টাফদের ছুটি দেয়া হয়। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা নেই, সে সব প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে। অফিস শেষের নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গুলশানে অবস্থিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মহিবুল কবীর জানান, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে একটা পর্যন্ত কোনো মতে জেনেরেটরের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হয়। কিন্তু এর পরও বিদ্যুত্ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠান থেকে অনানুষ্ঠানিক ছুটি ঘোষণা করা হয়, যদিও নামমাত্র সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খুলে রাখা হয়। বিভিন্ন গার্মেন্টস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত এনভয় গার্মেন্টসে জেনেরেটরের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও তা যথেষ্ট ছিল না। এ ছাড়া, কস্পিউটার ফার্মগুলো বিদ্যুত্ না থাকার কারণে দুপুরের পর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি।
সিএনজি পাম্পগুলোও প্রায় বন্ধ ছিল। এক ঘণ্টা সিএনজি পাম্প সচল থাকলেও আরেক ঘণ্টা বিকল ছিল। সিএনজি পাম্প এন্ট্রাকোর জেনেরেটরের মাধ্যমে কিছু সময় সচল রাখে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এন্ট্রাকোতে কর্মরত শামীম জানান, বিদ্যুত্ না থাকার কারণে জেনেরেটরের মাধ্যমে এক ঘণ্টা পরপর কার্যক্রম চালানো হয়।
মিরপুরের ১০ নম্বরে অবস্থিত ডেভেলপমেন্ট ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি কোবরা ও টেডাগুয়ার কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জিআইএস স্পেশালিস্ট শফিউল হাসান সুমন জানান, বিদ্যুত্ না থাকায় অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই অবস্থা অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও।
