সমবায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধনী-গরীবের বৈষম্য দূর করতে হলে গ্রামের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। গ্রামে অর্থের সঞ্চালন বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। গ্রামের উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা একমাত্র করতে পারে সমবায়। শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ৪৩তম জাতীয় সমবায় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, নদীভাঙনে অনেক মানুষ গৃহহারা হয়ে যায়। তাদেরকে রাস্তার পাড়ে বসে থাকতে হবে। রেললাইনের পাশে বস্তিতে থাকতে হবে। তাদেরকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে কেন? এই বৈষম্য কেন থাকবে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪টি জেলার ৬৬টি উপজেলায় ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় ৪,২৭৫টি গ্রামে গ্রাম সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা এবং সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মফিজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্য শেষে তিনি দশটি ক্যাটাগরিতে ২০১২ সালের জাতীয় সমবায় পুরস্কার বিতরণ করেন।
এবার কৃষিভিত্তিক গ্রাম উন্নয়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দ্বারিয়াপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড, সঞ্চয় ঋণদানে ঢাকার সমপ্রীতি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সদস্য এমদাদ হোসেন মালিক, দুগ্ধ সমবায়ে পাবনার হাটুরিয়া জগন্নাথপুর প্রাথমিক দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড, মহিলা সমবায়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড, বহুমুখী সমবায়ে খুলনার দৌলতপুর বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে।
এছাড়া মত্স্যজীবী সমবায়ে পুরস্কার পেয়েছে সুনামগঞ্জের সোমা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, মুক্তিযোদ্ধা সমবায়ে যশোরের শার্শা থানা মুক্তিযোদ্ধা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, ভূমিহীন সমবায়ে ময়মনসিংহের পাটগুদাম দুলদুল ক্যাম্প ভূমিহীন সমবায় সমিতি লিমিটেড, যুব, বিশেষ শ্রেণি, তাঁতীসহ অন্যান্য পেশাভিত্তিক সমবায়ে পিরোজপুরের সাফা বন্দর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভোগ্যপণ্য সরবরাহ সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং পরিবহণ শ্রমিক কর্মচারী সমবায়ে কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রাম জেলা মটর শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেড।
